জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'দলের যাতে অস্বস্তি না হয়, সেটা দেখব'। বিধানসভায় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিতে হাজিরা দেওয়ার পর ভোলবদল হুমায়ুন কবীরের। ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক বলেন, 'খুব সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। আমাকে দলের তরফ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মান্য়তা দিয়ে চলতে বলা হয়েছে। আমি মান্য়তা দিয়ে চলব'।
হুমায়ুন বলেন, 'শোভনদেববাবু, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং অরূপ বিশ্বাস ডেকেছিলেন। খুব সন্তোষজনক আলোচনা হয়েছে। দল যাতে কোনও কারণে, কোনও বিষয় নিয়ে বিড়ম্বনায় না পড়ে, সেরকম কোনও কাজ আমার মতো কোনও বিশ্বস্ত সৈনিক তার করা উচিত নয়, সেটা ওনারা বলেছেন। আমার সেটা ভালো লেগেছে'। জাতিসত্ত্বা নিয়ে আর মুখ খুলবেন না? বলেন, 'এইসব প্রশ্নের কোনও উত্তর আমার কাছে নেই'। শুভেন্দুকে মুর্শিদাবাদে ঢুকতে না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গে এদিন বলেন, 'যখন যাবে, তখন সে ব্য়াপারে কি করব, আপনারা জানতে পারবেন'।
এর আগেও, একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন হুমায়ুন। শোকজের মুখেও পড়েছেন। সূত্রের খবর, এদিন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির বৈঠকে রীতিমতো কড়া বার্তা দেওয়া হয় হুমায়ুনকে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, 'দলের সংবিধান, নীতি ও আদর্শ মেনে চলতে হবে। দল অস্বস্তিতে পড়ে, এমন কোনও কথা বলা যাবে না। কমিউনাল সেন্টিমেন্ট নিয়ে কথা বলা যাবে না'।
এদিন শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি হাজিরা দেওয়া পর, নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় হুমায়ুন কবীরকে। দু’জনেই হাসিমুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঘটনাটি ঠিক কী? বিধানসভায় 'ধর্মযুদ্ধ'। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের পাল্টা বক্তব্যে বিতর্ক। হুমায়ুনকে শোকজ করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। শোকজের জবাবও দিয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু নিজের অবস্থানের অনড় ছিলেন তিনি। বস্তুত, সোমবার শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ করে ফের চাঁচাছোলা ভাষায় তোপ দাগেন হুমায়ুন।
এদিকে শোকজের যে জবাব দিয়েছিলেন হুমায়ুন, তাতে সন্তুষ্ট ছিল না তৃণমূল শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি। আজ, মঙ্গলবার শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির সামনে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ককে।