রাজ্যে বাড়ল একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা। ২০২৫ সালে জলদাপাড়া ও গরুমারা অভয়ারণ্যে গণ্ডার শুমারিতে এই চিত্র ধরা পড়েছে। এই সুখবরে খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়েছে জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের কাছে। শুধুমাত্র জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের গণ্ডারের সংখ্যা বেড়েছে ৩৯টি। ফলে এই অভয়ারণ্যে মোট গন্ডারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৩১টি। ২০২২ সালে এই জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গন্ডারের সংখ্যা ছিল ২৯২টি।
প্রসঙ্গত গত ২০১৩ সালে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা ছিল ১৮৬টি, ২০১৫ সালে যা বেড়ে হয় ২০৪টি, ২০১৯ সালে হয় ২৩৭টি এবং ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯২টি।
এদিকে ২০২৫ সালের গন্ডার শুমারিতে দেখা গিয়েছে, গরুমারা জাতীয় উদ্যানেও গন্ডারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৬টি। ফলে এই দুই উদ্যানে সর্বমোট গন্ডারের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫টি। গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের বিভাগীয় বনাধিকারিক দ্বিজপ্রতীম সেন জানান, ‘গণ্ডারের সংখ্যা বাড়বে আশা করেছিলাম। গত কয়েক বছর ধরে ৩-৪টি করে সংখ্যা বাড়ছিল। অনেকদিন পর একধাপে ছয়টি গণ্ডার বাড়ল।’
এছাড়া জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডিএফও প্রবীণ কাশোয়ান বলেন, ‘জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের গণ্ডার শুমারিতে ৩৯টি গণ্ডার বেড়েছে। ২০২২ সালে গণ্ডার ছিল ২৯২টি। এবার তা বেড়ে হল ৩৩১টি। গণ্ডার সংরক্ষণ ও জঙ্গলের সার্বিক নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, এই গণ্ডার শুমারিতে শুধুমাত্র গন্ডারের সংখ্যাই গণনা করা হয়নি, সেইসঙ্গে একশৃঙ্গ গণ্ডারদের খাদ্য ও বাসস্থানের বর্তমান অবস্থা কী, সেটাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। গত ৫ এবং ৬ মার্চ দুই জাতীয় উদ্যানে শুমারিতে অংশগ্রহণ করেন কয়েকশো বনকর্মী ও বন্যপ্রাণী প্রেমী সংগঠনের সদস্যরা। এজন্য কাজের সুবিধার্থে গরুমারা ও জলদাপাড়াতে ৮৫টি কুনকি হাতিকে শুমারির কাজে ব্যবহার করা হয়। দুই জাতীয় উদ্যান মিলিয়ে ৬৩১ জন বনকর্মী ও ১৫টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা কাজ করেন।