অয়ন ঘোষাল ও পিয়ালী মিত্র: চিৎপুর কাণ্ডে এখনও কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরা। ধৃত সাঁতার শিক্ষক কে আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে চাইবে থানা।
প্রাথমিক ভাবে নিছকই আত্মহত্যার চেষ্টা বলে মনে করা হলেও ১১ বছরের নাবালিকার স্কুলের খাতায় লেখা একটি নোট সম্পূর্ণ অন্য মোড় দিয়েছে চিতপুরের ঘটনাকে। কাশীপুর রোডের চারতলার ফ্ল্যাটে মঙ্গলবার বিকেলে ঠিক কী হয়েছিল, তা প্রাথমিকভাবে জানতে পারলেও ঘটনার মোটিভ নিয়ে এখনও বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে পুলিশের মনে।
প্রথমত কলেজ স্কোয়ারের সাঁতার প্রশিক্ষক কোন সুবাদে কাশীপুর রোডের এই ফ্ল্যাটবাড়িতে অবাধ এবং নিয়মিত যাতায়াত করতেন, সেই প্রশ্ন উঠছে। দ্বিতীয়ত, শুধু আলমারিতে থাকা গয়না লুঠ করার সময় ওই ১১ বছরের বালিকা তাকে দেখে ফেলেছিল এবং তার কীর্তি ফাঁস হয়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কা থেকে মুখ বন্ধ করার জন্য নাবালিকার গলায় গামছার ফাঁস? তারপর রান্নাঘর থেকে সবজি কাটার ছুরি এনে গলায় কোপ? নাকি এর পিছনে আরও বৃহত্তর কোনও মোটিভ কাজ করছিল কি না জানতে চায় পুলিশ।
কাশীপুর রোডের চারতলা ফ্ল্যাট বাড়িটি ঘটনার পর থেকেই বন্ধ। সামনে পুলিশ প্রহরা আছে। কিন্তু ভিতরে কেউ নেই। ক্রাইম সিন হিসেবে জায়গাটি রিবন দিয়ে সিল করেছে পুলিশ। সন্দীপ সাউ কে এখনও পর্যন্ত জেরা করে ঘটনাক্রম সম্পর্কে মোটামুটি স্পষ্ট ধারণা পাওয়া গেলেও মোটিভ এখনও খুব স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গতকাল চিত্পুরের কাশীপুর রোডে হাড়হিম করা ঘটনা ঘটে। গয়না লুঠের পর ১১ বছরের মেয়েকে খুনের চেষ্টা করে তাঁর সাঁতার প্রশিক্ষক। তাকে দেখে তিনি বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছিলেন। আর সেই বিশ্বাসই কাল হল।
মেয়েটিকে প্রথমে গামছা দিয়ে গলা পেচিঁয়ে খুনের চেষ্টা করে। তাতে সক্ষম না হলে তারপর ছুরি দিয়ে গলা কেটে খুন করার চেষ্টা করে। দুপুর সোয়া তিনটে নাগাদ এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটি ঘটে। সাঁতার শিক্ষকের নাম সন্দীপ সাউ। ছাত্রীর বাড়ি থেকে গয়না লুঠ এবং পরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টার মামলায় পুলিস অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।