• অন্যের ঔরসে সন্তান এসেছে বউয়ের গর্ভে, সন্দেহের কালো মেঘে মেয়ের গলায় ব্লেড...
    ২৪ ঘন্টা | ২১ মার্চ ২০২৫
  • বিধান সরকার: ঘটনাটি ১০ নভেম্বর ২০১৩ সালের। হরিপালের সহদেব পঞ্চায়েতের গসা গ্রামের (Chandannagar Court)। ঘটনার দিন সেখ কামাল হোসেন তার শিশু কন্যাকে (Girl Child) নিয়ে নদীর পারের দিকে যায়। পরবর্তী সময় পুলিস শিশুটিকে উদ্ধার করে নদীর পার থেকে। মা রেজিনা বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে বাবাকে গ্রেফতার করে পুলিস। শিশুটির মায়ের অভিযোগ ছিল তার স্বামী শেখ কামাল হোসেন ভোর চারটে নাগাদ তার কাছ থেকে মেয়েকে কেড়ে নিয়ে পালাতে চেষ্টা করে। শ্বশুর-শাশুড়ি বাধা দিলেও সেখান থেকে বেরিয়ে যায় কামাল। অভিযোগ বাধা দিলে মেয়েকে ব্লেড দিয়ে খুন করার হুমকি দেয়।

    পুলিস সূত্রে জানা যায় হরিপালেরই কৌশিক নদীর বাঁধের ওপর শিশুটির গলা কাটা মৃতদেহ পাওয়া যায়। চন্দননগর মহকুমা আদালতে প্রায় ১১ বছর খুনের মামলা চলার পর বৃহস্পতিবার চন্দননগর ফাস্ট ট্রাক কোর্টের বিচারক জগৎজ্যোতি ভট্টাচার্য যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করেন। মামলার সরকারি আইনজীবী অন্নপূর্ণা চক্রবর্তী বলেন, হরিপালের থানা এলাকায় বাবা কামাল তার পাঁচ মাসের কন্যা সন্তানকে ব্লেড চালিয়ে হত্যা করে। মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে, একটি মামলা শুরু হয়।চন্দননগর ফাস্ট ট্রাক কোর্ট যাবজ্জীবন  সাজা ঘোষণা করে।

    সেই সঙ্গে দশ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায় এক বছরের জেল ঘোষণা করেন বিচারক। কন্যা সন্তানটি তার ছিল না এমন সন্দেহের বসেই এই খুন করে বাবা। অপরাধী শিশুটিকে মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে গিয়ে একটি নির্জন নদীর তীরে নৃশংস খুন করেছিল। পুলিস ওখান থেকেই তার মৃত দেহ উদ্ধার করেছিল। মোট ২১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯  জনের ট্রায়াল হয়।

    সাক্ষীদের বয়ান ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। অপরাধী বারংবার দাবি করেছিল, সে মানসিকভাবে সুস্থ নয় কিন্তু সেটা সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত হয় মেডিক্যাল পরীক্ষায়। লিগাল এড থেকে নিযুক্ত আসামী পক্ষের আইনজীবী শশী রাজ সিংহ বলেন, এই মামলার কোন প্রত্যক্ষদর্শী নেই। ডক্যুমেন্টরি ও মেটেরিয়াল সাক্ষ্য নেই। পুলিস আধিকারিক যে মামলাটা করেছে এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আদালত যা রায় দিয়েছে তা মেনে নিতে হবে। পরিবারের তরফে হাইকোর্টে আবেদন করবে। আমার দাবি পুনরায় সহানুভূতির সঙ্গে বিচার করবে বিচারক।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)