• পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপিতে ভাঙন, চার পঞ্চায়েত সদস্যের তৃণমূলে যোগ
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২১ মার্চ ২০২৫
  • সপ্তাহখানেক আগেই বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন হলদিয়ার বিধায়ক তথা তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তাপসী মণ্ডল। সেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলাতেই ফের ভাঙন ধরল বিজেপিতে। বৃহস্পতিবার রামনগর-২ ব্লকের পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতের চার জন বিজেপি সদস্য তৃণমূলে যোগদান করেন। কাঁথি সাংগঠনিক জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি তথা কাঁথি পুরসভার প্রধান সুপ্রকাশ গিরি তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

    বালিসাইতে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে এই দলবদল কর্মসূচি আয়োজিত হয়। বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। সুপ্রকাশ বলেন, ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূল-ঝড়ে রীতিমতো ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে বিজেপি। এখন তারই সূচনা হয়েছে। গত লোকসভা নির্বাচনে প্রথম বার রামনগরে বিজেপি লিড পেয়েছে, যা গত কয়েক দশকে কোনও দিন ঘটেনি। তবে এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে রামনগর-সহ গোটা রাজ্যে বিজেপির আসন শূন্য হয়ে যাবে।

    তৃণমূল সূত্রে খবর, পালধুঁই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য মনোজিৎ মান্না, চৈতালি গিরি,সঞ্জয় গারু এবং প্রিয়াঙ্ক মাইতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আপাতত এই পঞ্চায়েত বিজেপির দখলে থাকলেও গেরুয়া শিবিরে ভাঙন অব্যাহত থাকলে শীঘ্রই এই পঞ্চায়েত দখল করবে তৃণমূল। সম্প্রতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলেও পঞ্চায়েতের বেশ কয়েক জন সদস্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন।

    যদিও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। রামনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজেপি নেতা মাধবেন্দ্র সাউ বলেন, নিজেদের স্বার্থে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন পঞ্চায়েত সদস্যরা। আমরা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। সামনের বিধানসভা নির্বাচনে রামনগরে তৃণমূল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। তাঁর অভিযোগ, এলাকায় এখনও ভাল মানের একটি হাসপাতাল নেই। মানুষের জন্য কোনও কাজ করে না তৃণমূল।

    পঞ্চায়েত নির্বাচনে ২১ আসনের পালধুই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৫ টি আসনে জয় পায় বিজেপি। তৃণমূল পায় ৬টি আসন। ৪ পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের আসন বেড়ে দাঁড়াল ১০, বিজেপির কমে দাঁড়াল ১১টি। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি সত্যরঞ্জন রায়, রামনগর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনুপ গিরি সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। দলত্যাগী ৪ বিজেপি পঞ্চায়েত সদস্য জানিয়েছেন, বিজেপিতে কাজের সুযোগ নেই। সেই কারণেই তাঁরা দল ছাড়ছেন।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)