বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বে প্রায় প্রতিদিনই ওয়াকআউট করেছেন বিজেপি বিধায়করা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে এই কাজ একেবারেই উচিত হয়নি বলে মনে করেন চাকদহের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন তিনি। এই কারণে অস্বস্তিতে পড়েছেন শুভেন্দু সহ বাকি বিজেপি বিধায়করা।
বৃহস্পতিবারই ছিল বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের শেষ দিন। এ দিনও অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছিলেন বিজেপির বিধায়করা। এই পর্বের প্রায় প্রতিদিনই অধিবেশন বয়কট করেছেন তাঁরা। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বঙ্কিম জানান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিয়ে আলোচনার সময় বিরোধী দলের বিধায়কদের ওয়াকআউট করা উচিত হয়নি। তাঁর কথায়, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত অভিমত। অধিবেশন বয়কট করা আমাদের ভুল হয়েছে। এই বিষয়ে আগামী দিনে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। অন্য কোনও বিষয়ের উপর আলোচনার সময় বয়কট করলে ভালো হত। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার সময় আমাদের অধিবেশনে থাকা উচিত ছিল।’
বঙ্কিম ঘোষ আরও জানিয়েছেন, বিধানসভায় আরও বেশি করে মানুষের কথা তুলে ধরতে হবে। কারণ মানুষই ভোটে জিতিয়ে তাঁদের বিধানসভায় পাঠিয়েছেন। তাই আগামী দিনে অধিবেশন বয়কটের আগে আলোচনা করতে হবে।
বিজেপি বিধায়কের এই মতামতের সঙ্গে একমত হয়েছেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেছেন, টিভিতে মুখ দেখানো বা সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়া কোনও জনপ্রতিনিধির কাজ নয়। মানুষের জন্য কথা বলাই হল তাঁদের একমাত্র কাজ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর কথায় খানিকটা চাপে পড়েই লাগাতার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করতে বাধ্য হয়েছেন বহু বিজেপি বিধায়ক। তাঁদের ইচ্ছা না থাকলেও এ কাজ করতে হচ্ছে। বাজেট অধিবেশনের শুরুতেই শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করেছিলেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর থেকে লাগাতার অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট শুরু করে বিজেপি। দলের অন্যান্য বিধায়কদের পাশে নিয়ে বিধানসভার বাইরে বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই সব কাজেরই সমালোচনা করেছেন দলের বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষ।