• থামতে বলতেই ঝোপে প্যাকেট ছুড়ে পালাচ্ছিল ২ বাংলাদেশি, তাড়া করে ধরতেই উদ্ধার কোটি কোটি টাকার....
    ২৪ ঘন্টা | ২২ মার্চ ২০২৫
  • পিয়ালী মিত্র: মুর্শিদাবাদ সীমান্তে আটক বিপুল পরিমাণ হেরোইন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে পিরোজপুর ফাঁড়ির ৩.৩৮৭ কেজি হেরোইন পাচারের ছক ভেস্তে দিল বিএসএফ। ওই বিপুল পরিমাণ হেরোইনের আনমানিক মূল্য ৬ কোটি ৭৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

    গতকাল, মুর্শিদাবাদ জেলার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তে পিরোজপুর সীমান্ত ফাঁড়ির জওয়ানরা গোপন সূত্রে খবর পান যে সাদামাচর এলাকা থেকে অবৈধ জিনিসপত্র পাচার হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জওয়ানরা তাদের তত্পরতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ এক কৌশল তৈরি করে এবং সীমান্ত অঞ্চলে কঠোর নজরদারি শুরু করে। বিকেল ৪টার দিকে, সতর্ক জওয়ানরা ভারত দিক থেকে বাংলাদেশের দিকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে আসা দুজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখতে পান। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। জওয়ানরা চোরাকারবারীদের থামতে কঠোরভাবে সতর্ক করে দ্রুত তাদের দিকে এগিয়ে যান। ভীত ও আতঙ্কিত হয়ে চোরাকারবারীরা দ্রুত জিনিসপত্রগুলি কাছের ঝোপের মধ্যে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিএসএফ জওয়ানরা অদম্য সাহস দেখিয়ে চোরাকারবারীদের ধাওয়া করে তাদের একজনকে ধরে ফেলে, অন্যজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

    ওই ঘটনার পরপরই, বিএসএফ জওয়ানরা এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অভিযান চলাকালীন, ঝোপ এবং আশেপাশের এলাকাগুলিতে তল্লাশি করার সময়, জওয়ানরা ৫টি প্যাকেট উদ্ধার করে যার মধ্যে সন্দেহজনক বাদামী পাউডার পাওয়া যায়। উদ্ধার করা প্যাকেটগুলি তাৎক্ষণিকভাবে বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হয় যে এই সন্দেহজনক পাউডারটি হেরোইন। উদ্ধার করা হেরোইনের মোট ওজন ৩.৩৮৭ কেজি এবং এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৭৭ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।

    প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, চোরাকারবারী স্বীকার করেছে যে সে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত চোরাচালান কার্যকলাপের সাথে জড়িত একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি জানান যে প্যাকেটগুলি তার ভারতীয় সহযোগীরা তাকে দিয়েছিল। সীমান্তের ওপারে অন্য এক বাংলাদেশির কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ওই কাজের জন্য কিছু টাকা পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিএসএফ জওয়ানদের সতর্কতার কারণে তিনি এই চোরাচালানের প্রচেষ্টায় সফল হতে পারেনি।


    গ্রেফতারকৃত বাংলাদেশি পাচারকারী এবং জব্দকৃত হেরোইন প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    দক্ষিণবঙ্গ সীমান্তের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঘটনা সম্পর্কে বলেন, এই সফল অভিযান ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চোরাচালান রোধে চলমান প্রচেষ্টা, বিশেষ করে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।  এই সাফল্যের কৃতিত্ব সম্পূর্ণরূপে সাহসী বিএসএফ জওয়ানদের, যারা দিনরাত অটল সতর্কতার সাথে সীমান্তে তাদের কর্তব্য পালন করে। তাদের সতর্কতা এবং তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ কেবল চোরাচালানের প্রচেষ্টাকেই ব্যর্থ করে দেয়নি, বরং চোরাকারবারীদের মনবলকেও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে, যা বিএসএফের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)