• তোর বাবার কী অবস্থা করি দেখবি! ডিজিটাল অ্যারেস্টের পর হুমকি ছেলেকে ...
    ২৪ ঘন্টা | ২৩ মার্চ ২০২৫
  • আবারও প্রতারণার চেষ্টা। আবারও ডিজিটাল অ্যারেস্টের হুমকি। এবারে হুমকির শিকার এক সাধারণ হাসপাতাল কর্মী। রীতিমতো ভীতি প্রদর্শন করে গতকাল বড় অঙ্কের টাকা পাঠাতে বলে প্রতারকরা। এমনকি পুলিশের পোষাক পরা এক ব্যক্তির সঙ্গে কথাও বলায়। 

    শনিবার এই নিয়ে বর্ধমান সাইবার ক্রাইম পুলিশ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ওই ব্যক্তি। সাইবার থানা এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করেছে।

    যিনি প্রতারিত হতে যাচ্ছিলেন, তার নাম তাপস কুমার হাজরা। তিনি বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অন্তর্গত অনাময় হাসপাতালের কিচেনের একজন কর্মী। 

    তিনি যা জানিয়েছেন, তা যেমন অভিনব তেমনই চিন্তার।

    তিনি জানান,শুক্রবার দুপুর ১১ টা ৩০ মিনিট নাগাদ তার  কাছে একটি অপরিচিত নাম্বার  থেকে ফোন আসে। নাম্বার দুটি হল;9556892554 এবং 7909587490।


    তারা তাপসবাবুকে বলে, তাঁর নামে মহারাষ্ট্রের পুণেতে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে । তার ২০ থেকে ২৫ টা ব্যাঙ্ক এ্যাকাউন্টে প্রায় আডা়ই কোটি টাকা বে-আইনি লেনদেন হয়েছে । 

    তারা জানায়, তাপস হাজরার  নাম ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়েছে। ২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে গ্রেফতার করা হবে । তারা এও জানায়, পুণেতে গিয়ে জামিন নিতে হবে। তাতে প্রায়  ৩০- ৪০ হাজার টাকা খরচ হবে ।

    এরপর শুরু হয় প্রতারকের খেল। সে জানায় '  আমি স্যারের সাথে কথা বলেছি। আপনি  ২১ হাজার ৮৫০ টাকা এখুনি পাঠিয়ে দিন। আপনার জামিন হয়ে যাবে আর জামিন হয়ে গেলে ২০ হাজার টাকা ফেরত পেয়ে যাবেন '

    এরপরই সে ফোনটা কেটে দিয়ে তাপসবাবুকে ভিডিও কল করে এবং তাকে বলে ফাঁকা জায়গায় যেতে। সেই সময় অন্য প্রান্ত থেকে পুলিসের পোশাক পড়া এক  ব্যক্তি আবছা লেখায় তার  নামের কানাড়া ব্যঙ্কের  একটা এ টি এম  কার্ড দেখায় এবং আধার নম্বর বলে। তাপসবাবুকে বলা হয় সেটা তাঁর আধার কার্ডের সাথে মিল আছে কী না তা  দেখানোর জন্য ক্যামেরার সামনে ধরতে। 

    তাপস বাবু জানান, 'আমি ভয় পেয়ে গিয়ে তার কথামত আমার আধার কার্ড ক্যামেরার সামনে ধরে তা মিলিয়ে দেখি  আমার কার্ডের নাম্বার হুবহু একই । এর পর আমাকে বেশ কিছু ছবি ও কাগজ পাঠিয়ে বলে টাকা পাঠিয়ে দিন।'

    তারা এও হুঁশিয়ারি দেয় যে, তিনি যেন  আর এই কথা দ্বিতীয় কোন ব্যক্তির সাথে আলোচনা না করেন। করলে তাঁর ক্ষতি হয়ে যাবে । 

    এরপর ফোন টা কেটে তাপসবাবু ক্ষণিকের বিহ্বলতা কাটিয়ে  তার  ছেলেদের কথাটা ফোনে  জানান। তারা ঐ ব্যক্তিকে ফোন করলে সাথে সাথে তাপসবাবুর  হোয়াটঅ্যাপে প্রতারকরা যে সব ছবি পাঠিয়ে ছিল, তা মুহূর্তের মধ্যে ডিলিট করে দেয় । অপরদিকে তার ছেলেকেও হুমকি দেয়, 'তোর বাবার কি অবস্থা করি দেখবি পরে। '

    তাপস হাজরা জানান, তিনি এই ঘটনার পর বেশ ভয় পেয়ে যান। একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ তার বেশ কিছু নথি প্রতারকরা কী ভাবে পেল তা তিনি ভেবে পাচ্ছিলেন না। পরে বন্ধুবান্ধব এবং ছেলেদের কথায় তিনি সম্বিত ফিরে পান। সেই কারনেই তিনি সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

    এর আগেও বর্ধমানে এক সাধুকে প্রতারকরা জালে ফেলার চেষ্টা করেছিল। এই নিয়ে সতর্কতার প্রয়োজন আছে মনে করছেন সকলেই।

     

     

     

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)