• দুর্গাপুরে আরেক IPL, দৃষ্টিহীনদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে 'দৃষ্টিহীন' আজাদ...
    ২৪ ঘন্টা | ২৩ মার্চ ২০২৫
  • চিত্তরঞ্জন দাস: আইপিএল আবহে চোখে কাপড় বেঁধে দৃষ্টিহীনদের সঙ্গে 'টি-টোয়েন্টি' খেললেন সাংসদ কীর্তি আজাদ, কীর্তিতে হতবাক সবাই।

    শনিবার সন্ধ্যায় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে শুরু হতে চলেছে আইপিএল- ২০২৫। দেশ জুড়ে বিরাট উচ্ছ্বাস। সেই দিনই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের ৫নং ওয়ার্ডের কাশীরাম মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার উদ্যোগে 'টি-টোয়েন্টি ব্লাইন্ড ক্রিকেট প্রতিযোগিতা'। শনিবার সকালেই খেলার উদ্বোধন করতে পৌঁছালেন সাংসদ তথা ১৯৮৩ বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার কীর্তি আজাদ। চোখে কাপড় বেঁধে নামলেন মাঠে। দৃষ্টিহীনদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলেই উদ্বোধন করলেন খেলার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদের পাশাপাশি প্রশাসক মন্ডলীর চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়, প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবব্রত সাঁই প্রমুখ। সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, 'আজকে যা শিখলাম জীবনে কোনদিন শিখিনি। চোখের আর দেখতে পায় না, কিন্তু মনের জোরে এরাও খেলতে পারে। দৃষ্টিহীনরাও এগিয়ে যাচ্ছে। ওরাও লড়াই করে বাঁচতে জানে। ওদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ রয়েছে। আমিও ওদের সঙ্গে এই খেলায় অংশ নিতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমরা ওদের পাশে দাঁড়াবো প্রত্যেক মুহূর্তে।' তিনি আরও বলেন, 'এটা আমার কাছে খুবই স্পেশাল। এখান থেকে আমি অনেক কিছুই শিখলাম। আমার এত বছরে আমি কখনও দেখিনি। যেভাবে ওরা খেলে, ওদের দৃষ্টি নেই। আমার পক্ষে এই খেলা একেবারেই অসম্ভব। ওরা এতগুলো বল মারতে পারছে সেখানে আমি একটাও পারিনি।'

    উদ্যোক্তারা বলেন, 'আমরাও দৃষ্টিহীনদের নিয়ে বিশেষ কিছু করতে চাই। আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন সাংসদ কীর্তি আজাদ। আমরা নিজেদের গর্বিত মনে করছি। দৃষ্টিহীনদের খেলার মাধ্যমে দুর্গাপুরের মানুষদের উৎসাহিত করা ।'

    এলাকার বয়স্ক মানুষদের বক্তব্য, খুব ভালো লাগছে। এই ধরনের খেলা এখনকার ছেলে মেয়েদের আরও উৎসাহিত করবে। এক দর্শক বলেছেন, 'এমন খোলা আমি আগে কখনও দেখিনি। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। প্রতিবন্দীদের উথসাহিত করেছে। আমার খুবই ভালো লেগেছে। আমি দেখলাম আশে-পাশে যে শব্দ হচ্ছে সেই শব্দ বুঝে বুঝে খেলছে। ঠিক যেন লক্ষ্যভেদ। এই খেলা দেখে যারা প্রতিবন্দী অনেকেই উথসাহিত হবেন। অনেকেই চাইবেন এমনভাবে খেলানোর জন্য। এর আগে কখনও এমন খেলা আমি দেখিনি। এক কথায় অসাধারণ লেগেছে। 

     

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)