গতকাল -এর নয়া ফেসবুক ডিপি বা প্রোফাইল পিকচার নিয়ে। কারণ, গতকালই 'লাল পার্টি' তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ডিপি বদলে ফেলেছে। আর, তারপর থেকেই শুরু হয়েছে কটাক্ষ, তীর্যক মন্তব্য, সমালোচনা, ব্যঙ্গ!
কারণ, শনিবার দলের তরফে যে নয়া ডিপি আপলোড করা হয়েছে, তাতে দলের প্রতীক কাস্তে ও হাতুড়ির রং সোনালী-হলদেটে! এবং সেই কাস্তে-হাতুড়ির পিছনে রয়েছে শরতের স্বচ্ছ ও হালকা নীল রঙের আকাশ এবং পেঁজা তুলোর মতো ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ! অর্থাৎ - লাল পার্টির ডিপি থেকে লাল রংই উধাও হয়ে গিয়েছে! বদলে প্রবল আধিক্যের সঙ্গে অবস্থান করছে নীল-সাদা রং। নিন্দুকেরা প্রশ্ন তুলছে, হঠাৎ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের 'প্রিয় রং' নীল-সাদায় কেন ডিপি ভরাতে গেল তাঁর চির-বিরোধী সিপিআই?
তবে, শুধুমাত্র প্রোফাইল পিকচার নয়, সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজের কভার ফটোতেও জ্বলজ্বল করছে শরতের নীল সাদা আকাশ! সেখানে অবশ্য লাল রঙের কিঞ্চিৎ উপস্থিতি রয়েছে। আর রয়েছে - আগামী ২০ এপ্রিল দলের তরফে ঘোষিত 'ব্রিগেড চলো' কর্মসূচির প্রচার।
আজ -এর ওই ফেসবুক পেজে তাদের নয়া ডিপি এবং কভার ফটো-এ রিঅ্যাকশন দিয়েছেন যথাক্রমে - ৯,১০০ এবং ১,৯০০ জনের কিছু বেশি ইউজার। নয়া ডিপি আপলোড করার পোস্টে কমেন্টের সংখ্যাও ১,১০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে।
সেই সমস্ত কমেন্টও কম লক্ষ্যণীয় নয়। অনেকেই এহেন 'নীল-সাদা'ময় ডিপি দেখে অবাক হয়েছেন। কেউ আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন - 'লাল রঙ বামপন্থী ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের পথিক'! অনেকেই অভ্যাস মতো দলকে 'লাল সেলাম' বা 'রেড স্যালুট' জানিয়েছেন। কেউ আবার নয়া কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কমেন্ট করেছেন - 'গোল্ড স্যালুট'! কেউ কেউ রোম্যান্টিক কবিতা বা গানের লাইনও তুলে দিয়েছেন!
অন্যদিকে, এই বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য যেমন একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, 'এত দিন ওরা নীল-সাদা নিয়ে কটাক্ষ করত। আজকে নিজেরাই ওই রং করেছে। আমার মনে হয় ওরা নিজেদের বাংলাকে রক্তাক্ত করার ইতিহাস ভুলতে চেয়ে এই রং বদল করেছে। লাল হটিয়ে দিয়েছে।'
সিপিআই নেতৃত্ব অবশ্য এসব সমালোচনায় পাত্তা দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, কোনও রংই কোনও রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সম্পত্তি হতে পারে না। নীল-সাদাও তৃণমূলের বা রাজ্য সরকারের সম্পত্তি নয়। তাই, যে কেউ সেই রং ব্যবহার করতেই পারেন।