দলে থাকতে হলে দলের অনুশাসন মানতেই হবে - এই বার্তা আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সংগঠনের সমস্ত স্তরের নেতা ও কর্মীদের বহুবার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তারপরও এমন একাধিক অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে রাজ্যের শাসকদলকে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে। কিন্তু, তা বলে দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দলের জারি করা 'হুইপ' পর্যন্ত মানবেন না? এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না শীর্ষ নেতৃত্ব। আর তাই হুইপ-অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, এই বিষয়ে আগামিকালই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, অনুশাসন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা স্থির করতে ওই দিনই বৈঠকে বসছে তৃণমূল কংগ্রেসের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি।
সদ্য শেষ হয়েছে এবারের বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ওই অধিবেশনের শেষ দু'দিন - অর্থাৎ - গত ১৯ ও ২০ মার্চ , দলের সমস্ত বিধায়ককে বাধ্যতামূলকভাবে বিধানসভার অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে গত ১৯ মার্চ তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় নিজে বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন বলে আগে থেকেই সকলে জানতেন। ফলত, ওই দিন দলের অধিকাংশ বিধায়কই বিধানসভা কামাই করেননি।
কিন্তু, তার পরের দিন - অর্থাৎ - গত ২০ মার্চ ৫০ জনেরও বেশি তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় অনুপস্থিত ছিলেন! অথচ, নিয়ম অনুসারে - দলের তরফে হুইপ জারির পর একমাত্র কোনও জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া তাঁরা এটা করতে পারেন না। তথ্যাভিজ্ঞ মহলের বক্তব্য, এক্ষেত্রে যদি কোনও বিধায়ক তাঁর অনুপস্থিতির যুৎসই কারণ না দেখাতে পারেন, তাহলে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজ পর্যন্ত করা হতে পারে!
সাধারণত, রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনসভায় যখন সংখ্যাধিক্য প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা থাকে , তখনই দলীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে হুইপ জারি করা হয়।
তৃণমূলের আশঙ্কা ছিল, বাজেট অধিবেশনের শেষ দু'দিন বিজেপি বিধায়করা বিধানসভায় হট্টগোল করবেন এবং বেশ কয়েকটি জরুরি আর্থিক বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করবেন। সেই কারণেই ওই দু'দিন দলের সমস্ত বিধায়ককে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে বলে হুইপ জারি করা হয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটেও যে তৃণমূল বিধায়করা গত ২০ মার্চ বিধানসভায় অনুপস্থিত ছিলেন, ইতিমধ্য়েই তাঁদের নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এবার কী পদক্ষেপ করা হবে, তা স্থির করতে সোমবার বিধানসভাতেই তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান তথা রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং বিধানসভায় তৃণমূল পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকেই শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছে।