• রবীন্দ্র সরোবর নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি পরিবেশকর্মীদের, কী ঘটল ফুসফুসে?‌
    হিন্দুস্তান টাইমস | ২৪ মার্চ ২০২৫
  • দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস বলা হয় রবীন্দ্র সরোবরকে। সেই রবীন্দ্র সরোবরে এখন দূষণ বাড়ছে বলে অভিযোগ। ফলে সেখানে জলে এবং স্থলে থাকা প্রাণীরা মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী সবুজের উপর ভয়ানক ক্ষতি হচ্ছে বলে পরিবেশকর্মীদের দাবি। অথচ জাতীয় তকমা রয়েছে রবীন্দ্র সরোবরের। কিন্তু এই রবীন্দ্র সরোবরের লেকে উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। বরং রবীন্দ্র সরোবরকে আরও ক্ষতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন পরিবেশকর্মীদের একাংশ। এই আবহের যদি দ্রুত পরিবর্তন না ঘটে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবেশকর্মীরা।

    এমন ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় রবীন্দ্র সরোবরের অন্দরে এখন পরিবেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। রবীন্দ্র সরোবর এখন অবহেলিত বলে দাবি তুলে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তুলে ‘‌চার্জশিট’‌ প্রকাশ্যে এসেছে পরিবেশ রক্ষায় তৈরি হওয়া সংগঠন ‘‌সবুজ মঞ্চ’‌। এই সংগঠনের সদস্যদের বক্তব্য, দক্ষিণ কলকাতার ফুসফুস এই রবীন্দ্র সরোবরে গত কয়েক মাস ধরে যে সব কাজ চলছে, তাতে রবীন্দ্র সরোবরের আরও ক্ষতি হচ্ছে। অবিলম্বে এই বিষয়ে পদক্ষেপ না করা হলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, জল, বাতাস, শব্দ এবং আলোর যে দূষণ হচ্ছে তা নিয়ন্ত্রণের কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি দেখা যায় না। দূষণ মাপার কোনও যন্ত্র অথবা বোর্ড এখানে রাখা হয়নি।


    এদিকে এখানে যাতে দূষণ না হয় তাই ছট পুজোয় রবীন্দ্র সরোবর বন্ধ রাখা হয়। প্রত্যেক গেটে নিরাপত্তারক্ষী রাখা হয়েছে। যাতে কেউ প্লাস্টিক নিয়ে ভিতরে ঢুকতে না পারে। এই লেকে তা ফেলে দূষণ করতে না পারে। প্রত্যেকদিন দুপুরে লেকের সব রাস্তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। ভিতরে যানবাহন নিষিদ্ধ করা আছে। এবার হোলিতেও বন্ধ রাখা হয়েছিল রবীন্দ্র সরোবর। কিন্তু পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, পরিবেশ বিরোধী কাজকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। রবীন্দ্র সরোবরের জলাশয়ে দীর্ঘদিন পলি তোলা হয়নি। জলে প্লাস্টিক ফেলা ঠেকানোর ক্ষেত্রেও উদাসীন কেএমডিএ। এই জলাশয়ে দূষণ বৃদ্ধির জেরে রবীন্দ্র সরোবরের জলাশয়ে মরা মাছ ভেসে ওঠে।

    অন্যদিকে ‘‌সবুজ মঞ্চের’ পরিবেশকর্মীদের প্রস্তাব, রাতে এখানে কোনও খেলার ব্যবস্থা রাখা চলবে না, ধর্মীয়–সামাজিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে, শুধু সামান্য মেরামতির কাজ ছাড়া কোনও ধরনের নির্মাণ অথবা সম্প্রসারণ করা যাবে না। রবীন্দ্র সরোবরের জীব বৈচিত্র‌্যের ক্ষতি হয় এমন কাজ করা যাবে না। এই বিষয়ে ‘‌সবুজ মঞ্চের’‌ পক্ষ থেকে নব দত্ত বলেন, ‘সমস্ত কথা কেএমডিএ’‌কে জানানো হয়েছে। তবে সন্তোষজনক উত্তর ও পদক্ষেপ না করলে বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’ কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন এবং জলবায়ু মন্ত্রকেও এইসব কথা জানিয়েছেন পরিবেশকর্মী সৌমেন্দ্রমোহন ঘোষ।
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)