‘ফ্যাম’ অর্থাৎ তৃণমূলের সমর্থক গোষ্ঠী এখন চর্চার শিখরে। সদ্য এই গোষ্ঠীই হলুদ পতাকায় ঢেকে দিয়েছিল দক্ষিণ কলকাতাকে। তাতে লেখা ‘অধিনায়ক অভিষেক’, এরপর রাতারাতি সেই পতাকার পাশেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সম্বলিত হোর্ডিং ঝুলিয়ে লেখা হয়েছে ‘সর্বাধিনায়িকা জয় হে’। তবে এই সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটির ভাষা থেকে শব্দ চয়ন কি আদেও ঠিক আছে? এদিন সেই ব্যাখ্যায় শামিল হলেন তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রবিবার কলকাতা পৌরসংস্থার ১০১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত গাঙ্গুলিবাগানের কলতান কমিউনিটি হলে ‘মিশন ২০২৬’-র লক্ষ্যে আগামী নির্বাচনে ‘সোশ্যাল মিডিয়া চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে ফ্যাম কমিউনিটির রণকৌশল বৈঠক হয়। এই বৈঠকেই উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী, বাবুল সুপ্রিয়, রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়, আইটি সেলের ইনচার্জ দেবাংশু ভট্টাচার্য, কলকাতা পৌরনিগমের মেয়র পারিষদ বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্ত, প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিশিষ্ট আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী, সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী। দলীয় কর্মীদের ‘দলের এবিসিডি’ শিখিয়ে এদিন বাবুল বলেন, ‘তৃণমূলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-ই সর্বময় নেত্রী। আর অভিষেক বন্দোপাধ্যায় হলেন সেনাপতি। এ ব্যাপারে কি কারও কোনও সন্দেহ আছে? দিদিই অভিষেকের হাতে ব্যাটন তুলে দিয়েছেন, তাঁর কাঁধে দায়িত্ব দিয়েছেন। এখানে আসল হচ্ছে দল। যুবদের অনুপ্রাণিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
একই সুর স্নেহাশিস থেকে দেবাংশুর কণ্ঠেও। স্নেহাশিস বলেন, ‘দলের নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, তাঁর আদৰ্শ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। দলনেত্রী তাঁর কাঁধে সেই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার।’ এরপরই তাঁর সংযোজন, ‘ফ্যাম সবচেয়ে বৃহৎ সংগঠিত সমাজমাধ্যমের দল, তাদের কাজ প্রশংসিত। ইন্টারনেটের যুগে ফ্যামের লড়াই অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এই শতসহস্র কর্মী, যাঁরা দল থেকে বড় কিছুই পাননি কেবল ভালোবাসা ছাড়া, তাঁরাই কিন্তু কোনো বিপদে আগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। আপনাদের সংগঠিত থাকতে হবে।’ সাবধানবাণী শুনিয়ে দেবাংশু বলেন, ‘অভিষেক বন্দোপাধ্যায় আবেগ কারণ তিনি যেভাবে সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটিকে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার আগে এমন কেউ গুরুত্ব দেননি। আর মমতা বন্দোপাধ্যায় সর্বময় নেত্রী, যাঁকে দেখে আমরা রাজনীতি করি। মমতা এবং অভিষেক, যাঁরা এই এবং-র বদলে বনাম করতে চাইছেন সেই রাজনৈতিক কুচক্রিদের থেকে সাবধান থাকুন।’
তাঁর সংযোজন, ‘তৃণমূল কর্মীদের চারটে রক্ত কণিকা-লোহিত, অণুচক্রিকা এবং শ্বেত কণিকা। তারপরও চতুর্থ কোনও রক্তকণিকা পাওয়া যায়, তার নাম মমতা-কণিকা। এটাই আমাদের শরীরে রয়েছে। এই দুজনের বাইরে গিয়ে তৃণমূল কর্মীরা কিছু ভাবতে পারেন না! এখানে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই।’ দেবাংশুর সাফ বক্তব্য, ‘আগেও বিরোধীদের দশ গোল দিয়েছি, ছাব্বিশের ভোটেও আরও বেশি ব্যবধানে জিতব আমরা। ফ্যাম যত শক্তিশালী হবে, তৃণমূলের সংগঠন তত পুষ্ট হবে।’ নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘ফ্যাম’কে কীভাবে শক্তিশালী করা যায়, বৈঠকে সেই বার্তা এবং পরামর্শই দিয়েছেন নেতা, মন্ত্রীরা।