ই. গোপী: পিংলার পটচিত্র স্থান পেল ভারতীয় ডাক বিভাগের পোস্টকার্ডে। খুশি শিল্পী থেকে পর্যটকরা। পটচিত্রের জন্য বিখ্যাত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলার নয়াগ্রাম। এই গ্রামে এলে মন ভালো হয়ে যায় সকলের। প্রাচীন পটকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন পিংলার পটুয়ারা। দূর-দূরান্ত,দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন পিংলার পটশিল্প দেখতে। কেউ আসেন ডকুমেন্টারি করতে, কেউ আবার নানা গবেষণার জন্যও আসেন। যেখানে রয়েছে দেশ-বিদেশের নানা হারিয়ে যাওয়া ইতিহাস। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছে পিংলার পটচিত্র। এবার পিংলার সেই পটচিত্র স্থান পেল ভারতীয় ডাক বিভাগের পোস্টকার্ডে।
নয়াগ্রামের পটচিত্রের উৎকর্ষ তুলে ধরার পাশাপাশি যাতে সহজে ডাক বিভাগের পার্সেলের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো যায় সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। পিংলার পটচিত্রের পিকচার পোস্টকার্ড বাজারে আসছে জানতে পেরে পর্যটকরা ইতিমধ্যেই কেনার জন্য উৎসাহী হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ আবার নয়াগ্রামেই চলে এসেছেন পোস্টকার্ড কেনার জন্য। সাধারণ মানুষের কাছে এই পোস্টকার্ড কদর পাবে এবং তা দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলেও আশাবাদী শিল্পীরা।
সাধারণত, এসব ক্ষেত্রে ৫ থেকে ৬ হাজার পিকচার পোস্টকার্ড বানানো হয় বলে ডাকবিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে। এই পিকচার পোস্টকার্ডের দাম মাত্র ১০ টাকা। তবে বার্তা পাঠাতে গেলে আরও ৬ টাকার স্ট্যাম্প লাগাতে হবে। ইতিমধ্যেই পটচিত্রের পোস্টকার্ড সংগ্রহের জন্য ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্রের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুরোধ আসাও শুরু হয়ে গিয়েছে।
এই ব্যাপারে পটশিল্পী বাহাদুর চিত্রকর জানিয়েছেন, ভারতীয় ডাক বিভাগের উদ্যোগে পিংলার নয়াগ্রামের পটচিত্র এবার পোস্টকার্ডে লঞ্চ করেছে। এর জন্য নয়াগ্রামের সমস্ত শিল্পীরা খুব খুশি। ডাক বিভাগের এই যে উদ্যোগ খুব ভালো। এই পোস্টকার্ডের মাধ্যমে চিঠি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে বিদেওশে যাবে। দেশ-বিদেশের সবাই দেখবে, পিংলার পটচিত্র। ফলে পটচিত্রের পরিচিতি আরও বাড়বে। যার জেরে পটচিত্রের কেনাকাটাও আরও বাড়বে। ডাক বিভাগের এমন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাচ্ছেন সব শিল্পীরাই।