প্রদ্যুত্ দাস: বানরের অত্যাচারে প্রায় উঠে যাওয়ার জোগাড় প্রাইমারি স্কুল। ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসতেই ভয় পাচ্ছে বানরের ভয়ে। পড়ুয়ার সংখ্যা কমতে কমতে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জন। তার মধ্য়ে এখন আসছে ৬-১০ জন। এমনই অবস্থায় চলছে জলপাইগুড়ির ডাঙাপাড়া স্টেট প্ল্যান প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাহাড়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। বানরের অত্যাচারের জন্য স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত কমছে বলে অভিযোগ। বর্তমানে এই স্কুলে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা রয়েছে মাত্র ১৭ জন। অথচ স্কুলে মোট শিক্ষিকা রয়েছেন ৪ জন। এছাড়া রয়েছেন মিড ডে মিলের কর্মীরা।
স্কুলের পড়ুয়ারা জানায়, বানরের দল এসে মিড ডে মিলের খাবার কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। অভিভাবকরা বলেন, বানরের ভয়ে ছেলেমেয়েরা স্কুলে আসতে চায় না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা অসীমা সাহা বলেন, চা বাগানের আশেপাশে থাকা সমস্ত বানরের দল এসে মাঝে মধ্যেই স্কুলের ক্লাস রুমগুলো দখল করে নেয়। বানরের অত্যাচারে মাঝে মধ্যেই স্কুলের পঠনপাঠন বন্ধ করে রাখতে হয়। বানর বাহিনী তান্ডব চালিয়ে স্কুলের বিদ্যুতের মিটার থেকে শুরু করে সমস্ত বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে দিয়েছে। এর ফলে গরমের সময় ফ্যান চালানো যায় না। একসঙ্গে ৪২ কিলো চাল খেয়ে গিয়েছে।
আইসিডিএস কর্মী শান্তি বর্মন বলনে, সকাল হলেই বানর চলে আসে। বানরের অত্যাচারে বাচ্চারা স্কুলে আসতে চায় না। অভিভাবকরা আসে, খাবার নিয়ে চলে যায়। বচ্চারা স্কুলে এসে বসতেই পারে না। তাদের হাত থেকে খাবার কেড়ে নেয়, ডিম কেড়ে নেয়। চাল নষ্ট করে দেয় বানররা। এখন বানর তাড়ানোর উপায় আমার জানা নেই। রোজ পটকা এনে ঘরে রাখছি। পটকা ফাটাই। বানরারা কিছু দূর যায়, আবার ফিরে আসে। সরকারের পক্ষে কি আর বানর তাড়ানো সম্ভব!