পিয়ালী মিত্র: গত শনিবার ইডেনে আইপিএলের ম্য়াচে মাঠে ঢুকে তোলপাড় করে দিয়েছিল বর্ধমানের কিশোর ঋত্বিক পাখিরা। বিরাট কোহলির ওই ডাই হার্ট ফ্যান মাঠে ঢুকে একেবারে শুয়ে পড়ে বিরাট কোহলির পায়ে। বিরাট তখন পঞ্চাশ রানে। ঋত্বিককে জড়িয়ে ধরেন বিরাট কোহলি। খেলা কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়। পুলিস এসে নিয়ে যায় ঋত্বিককে। সেই ঋত্বিককে জামিন দিল আদালত। তবে আইপিএল চলাকালীন ইডেনে আর ঢুকতে পারবে না সে।
ইডেন থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ঋত্বিকের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অনুপ্রবেশ ধারায় মামলা করা হয়। তবে তার মুখে সবসময়ে শোনা গিয়েছে 'বিরাট আমার ভগবান'। ঋত্বিকের জামিন নিয়ে আজ আদালতে তুমুল বাকযুদ্ধ হয় সরকারি আইনজীবী ও বিচারকের মধ্যে। এদিন সরকারি আইনজীবী বলেন, ঋত্বিকের পিসি চাই। বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, পিসি নিয়ে কী করবেন। ১৯৮৩ সালের ম্যাচ দেখেছেন। একটা উইকেট পড়তে আর মাঠে লোক ঢুকে যেত।
পিপি: অভিযুক্তের যে ব্লকে থাকার কথা সেখান না থেকে পুলিসকে উপেক্ষা করে ঢুকে যায়। আবার ৩ তারিখ ম্যাচ আছে?
ক্রিমিন্যাল ফোর্স অ্যাপ্লাই করেছে।? যার উপর ক্রিমিন্যাল ফোর্স অ্যাপ্লাই করেছে তাঁর স্টেটমেন্ট আছে।
বিচারক( হাসতে হাসতেই): বিরাট কোহলির স্টেটমেন্ট?
বিচারক: কী করে ছেলে? পড়াশোনা করে?
আইনজীবীরা: হ্যাঁ পড়াশোনা করে
সমস্বরে আইনজীবীরা: ডাই হার্ড ফ্যান স্যার।
অভিযুক্তের আইনজীবী: ইমোশনের সঙ্গে ক্রাইমকে এক করবেন না। বিরাট কোহলিকে নাকি ডিস্টার্ব করেছে। কোহলির স্টেটমেন্ট আছে।
পিপি: জামিনের বিরোধিতা করছি
বিচারক: এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি যে তিনি কোনো অস্ত্র বা অফেন্ডিং আর্টিকেল পাওয়া যায়নি যখন অভিযুক্ত বিরাটের কাছে আসে। কোনো ক্রিমিন্যাল ফোর্স অ্যাপ্লাই করার প্রমাণ পাওযা যায়নি।
বিচারক: কী পড়ো?
অভিযুক্ত: উচ্চমাধ্যমিক দিয়েছি
বিচারক: অভিযুক্ত একজন পড়ুয়া। এটা উপেক্ষার জায়গা নেই যে যুবক ইডেনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন করা যায় সেটা দেখিয়ে দিয়েছে। এটা কলকাতা পুলিসের জন্য একটা শিক্ষা । এই ঘটনা পুলিসের আসল নিরাপত্তার চিত্রটা তুলে ধরেছে। আশা করব কলকাতা আগামী সময় এর থেকে শিক্ষা নেবে । এবং ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা যাতে না হয় তার নিশ্চিত করবে। আমি পিসি বা জেসিতে রাখার কোনো কারণ দেখছি না। ফলে জামিন মন্জুর।