• অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রাপ্য পেনশন থেকে বঞ্চিত করছিল রাজ্য, জোর ধমক আদালতের
    হিন্দুস্তান টাইমস | ২৫ মার্চ ২০২৫
  • তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেতনবৃদ্ধির আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা। ডিএর দাবিতে তাঁদের করা মামলা পড়ে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। তারই মধ্যে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক সরকারি ও সরকার পোষিত সংস্থায় পেনশন না দেওয়া বা কম দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। তেমনই একটি ঘটনায় আদালতে জোর ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এক শিক্ষককে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির স্কেলেই বেতন দিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি হরিশ ট্যান্ডনের ডিভিশন বেঞ্চ।




    জানা গিয়েছে, বর্ধমানের দধিয়া গোপালদাস উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুল কালাম আজাদ শিক্ষকতা করার সময় স্নাতকোত্তর ডিগ্রির বেতন পেতেন। ২০১৫ সালে অবসর গ্রহণের পর তাঁকে পেনশন দেওয়া হচ্ছে গ্রাজুয়েট স্কেলে। ২০১৯ সালে হাইকোর্টে মামলা করেন কালাম সাহেব। মঙ্গলবার এক নির্দেশে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে তাঁর সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

    রাজ্য সরকারের দাবি ১৯৮৬ সালে বি কম ডিগ্রি নিয়ে চাকরিতে যোগদান করেছিলেন আবুল কালাম সাহেব। এর পর তিনি রেগুলারে পোস্ট গ্রাজুয়েট করেন। কিন্তু তাঁকে পোস্ট গ্রাজুয়েট করার অনুমতি দিল কে? জবাবে শিক্ষকের আইনজীবী বলেন, আবুল কালাম সাহেবকে স্কুলে বাংলা পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেজন্য স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তাঁকে স্নাতকোত্তর পড়ানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ১৯৯৯ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পান তিনি। সেকথা DIকে জানানো হয়। এর পর তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিতে বেতন পেতে শুরু করেন।

    এই মামলায় বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, বিনা অনুমতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করে থাকলে এতদিন কেন সরকারের নজরে পড়ল না। কেন অবসরের পর তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে। বেতন যে স্কেলে পেয়েছেন পেনশনও সেই স্কেলেই দিতে হবে আবুল কালাম সাহেবকে। তাঁর সমস্ত বকেয়া শোধ করে দিতে হবে রাজ্য সরকারকে।

    আদালতের এই রায়ে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি নেতা শংকর ঘোষ বলেন, ‘এই সরকার শিক্ষিত বেকার ও নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যারা সরকারি চাকরি পেয়েছেন তাঁদের সবথেকে বড় শত্রু। এই সরকার কাউকে বেতন বা পেনশন দিতে চায় না। কী করে মানুষের করের টাকা দলীয় কেডার ও সাধারণ মানুষের একাংশের মধ্যে বিলিবণ্টন করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় সেটাই দের মূল লক্ষ্য।’
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)