পার্থ চৌধুরী: গতকাল এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দেওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হতেই বদলির নির্দেশ এল বিচারক অরবিন্দ মিশ্রের। তিনি বর্ধমান আদালতের ফার্স্ট ট্রাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক। মঙ্গলবার অরবিন্দ মিশ্রকে ঝাড়গ্রামের সেকেন্ড কোর্টের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ পদে যোগ দেবার নির্দেশ এসেছে। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে এই নির্দেশ এসেছে।
প্রসঙ্গত, বিচারক অরবিন্দ্র মিশ্র সোমবার বর্ধমান উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান ও বর্ধমান ১ ব্লকের সভাপতি কাকলি তা, বর্ধমান ১ ব্লকের যুব সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মানস ভট্টাচার্য, দুই তৃণমূল নেতা শেখ জামাল, কার্তিক বাগ-সহ ১৩ জনকে হেফাজতে নেবার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
মঙ্গলবার তার রায়ে বিচারক আবার ১৩ জনকে আগামিকাল সশরীরে বা ভিডিও কনফারেন্স মারফত হাজির করার জন্য সংশোধনাগারের সুপারকে নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার সরকারি পক্ষের আইনজীবী হরিদাস মুখার্জি ও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দাস জানান, অভিযুক্ত ১৩ জনের মধ্যে চারজন শারীরিক অসুস্থতার জন্য আদালতে উপস্থিত হন নি।আদালত তাদের আগামীকাল সশরীরে বা ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে, আজই বিচারকের বদলির এই নির্দেশ আসায় আলোড়ন ছড়িয়েছে। যদিও সিনিয়র আইনজীবী সদন তা ও বিশ্বজিৎ দাস জানিয়েছেন, এই বদলি রুটিন বদলি। এর মধ্যে কোনো অস্বাভাবিকতা নেই। তিনি বর্ধমানে ফার্স্ট ট্রাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক ছিলেন। তিনি এ ডি জে পদে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। এটা তার পদোন্নতি। উনি একা নন, শতাধিক বিচারক বদলি হয়েছেন। হাইকোর্ট কাউকে বদলি করতেই পারে। যতদিন না অন্য কেউ তার পদে যোগ দেন। তিনি স্বপদেই থাকবেন। তাই আগামিকাল তিনি চূড়ান্ত রায় দিতেও পারবেন।
এই নিয়ে আবার দানা বেঁধেছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপি জেলা যুব নেতা দেবজ্যোতি সিংহরায় জানান, শাসকদলের বিরুদ্ধে যারাই যাবেন, তাদের সাথেই এইরকম হচ্ছে। আগে পুলিসের ক্ষেত্রে এইরকম হয়েছে, এবারে বিচারকের ক্ষেত্রে হল। সবচেয়ে কাকতালীয় হল, যেদিনই উনি রায় দিলেন তার পরের দিনই বদলির নির্দেশ এল।
যদিও এই নিয়ে ভিন্নমত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা মুখপাত্র প্রসেনজিৎ দাসের। তিনি বলেন, এটা রুটিন বদলি। রায়ের সাথে এর কোনোও সম্পর্ক নেই। আইন আইনের পথেই চলবে। বিজেপি যে দাবি করছে তার কোনও ভিত্তি নেই।