মৃত্যুঞ্জয় দাস: সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পরে এবার চিত্রশিল্পী যামিনী রায়? শোনা যাচ্ছে, বেহাত হয়ে যাচ্ছে বিশ্ববরেণ্য শিল্পী যামিনী রায়ের বসতভিটে। অন্তত, এই অভিযোগ তুলে সরব সিপিএম, দাবি তৃণমূল-যোগের। অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণের দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয়রা।
বেহাত হয়ে যাচ্ছে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী পদ্মভূষণ যামিনী রায়ের বসতভিটে। একাংশের দাবি, স্থানীয় শাসকদলের নেতাদের 'সৌজন্যে'ই নাকি এমনটি ঘটছে। এই অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে সরব হলেন বড়জোড়ার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। সামাজিক মাধ্যমে প্রাক্তন বিধায়ক এই পোস্ট করতেই নিন্দার ঝড় উঠতে শুরু করে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর বসতভিটেকে হেরিটেজ ঘোষণা করে তা অধিগ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন এবার স্থানীয়রাও। যদিও যাঁদের বিরুদ্ধে এই যোগসাজসের অভিযোগ উঠেছে, তাঁরা তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন।
বাঁকুড়ার বেলিয়াতোড়ে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য শিল্পী যামিনী রায়। তাঁর ছোটবেলা কেটেছে বেলিয়াতোড়েই। তাঁর শিল্পসত্তার বিকাশও ঘটেছিল এই বেলিয়াতোড়েই। কিন্তু তাঁর পরবর্তী জীবন কাটে কলকাতায়। স্থানীয়দের দাবি, বেলিয়াতোড়ে নিজের জন্মভিটের পাশাপাশি যামিনী রায়ের বহু স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বাঁকুড়া-দুর্গাপুর রাজ্য সড়কের পাশে বেলিয়াতোড়ে থাকা একটি একতলা বাড়ির সঙ্গেও। ওই বাড়িকে হেরিটেজ ঘোষণা করে তা অধিগ্রহণ করে আর্ট গ্যালারি তৈরির দাবিও জানিয়েছিলেন স্থানীয়রা। বিধায়ক থাকাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রীকেও সেই আবেদন জানিয়েছিলেন বড়জোড়ার প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। কিন্তু প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, অধিগ্রহণ তো দূর, সেই বাড়ি এখন বেহাত হতে বসেছে! প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, শাসকদলের একাংশ সেই বাড়ি ও তার সংলগ্ন জমি বিক্রি করে দিচ্ছে স্থানীয় প্রোমোটারদের। দাবি, এতে যুক্ত রয়েছে তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যও।
সম্প্রতি যামিনী রায়ের বাড়ি হিসাবে পরিচিত সেই বাড়িতে শুরু হয়েছে সাফাইয়ের কাজ। প্রাক্তন বিধায়কের দাবি, এভাবে বেহাত হয়ে যাওয়ায় আগামীদিনে যামিনী রায়ের অন্যতম ওই স্মৃতি মুছে যাবে বেলিয়াতোড় থেকে। একই দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপিও। বেলিয়াতোড়ের সাধারণ মানুষও এমন কাণ্ডে স্তম্ভিত। তাঁদের দাবি, যামিনী রায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেলিয়াতোড়ের মানুষের আবেগ, এভাবে তাঁর স্মৃতি মুছে ফেলা যায় না! তাঁদের আরও দাবি, আর এটা রুখতে এগিয়ে আসতে হবে রাজ্য সরকারকেই।
এদিকে যামিনী রায়ের বসতভিটে হিসাবে পরিচিত বাড়িটিকে যামিনী রায়ের স্মৃতিচিহ্ন বলেই মানতে নারাজ প্রোমোটার ও স্থানীয় বেলিয়াতোড় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। তাঁদের দাবি, ওই বাড়িটির সঙ্গে যামিনী রায়ের কোনো স্মৃতি জড়িয়ে নেই। পরবর্তীতে যামিনী রায়ের উত্তরসূরিরা ওই বাড়ি কিনেছিলেন। তাছাড়া বাড়িটি হাতবদলের অভিযোগও মানতে নারাজ তাঁরা। তাঁদের দাবি, ওই বাড়ির মালিকের অনুরোধেই ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করা হচ্ছে। এর সঙ্গে হাতবদলের কোনো সম্পর্ক নেই।