• আমরা কি সুরক্ষিত, আতঙ্ক বুকে নিয়ে প্রশ্ন দুর্গা পিতুরির পাশের পাড়াগুলিতেহাটবাজারে দিনভর আলোচনায় শুধুই ফাটল
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শুধু দুর্গা পিতুরি লেন নয়, আশপাশের অলিগলির বাসিন্দাদের কপালেও এখন চিন্তার ভাঁজ। ‘আমাদের বাড়িও কি সুরক্ষিত? এক পাড়ায় ফাটল ধরলে, পাশের পাড়াতেও কি তার আঁচ পড়বে না?’ প্রশ্ন তাঁদের। একজন বা দু’জন নয়, লাগোয়া স্যাঁকরাপাড়া ও গৌর দে লেন, মদন দত্ত লেনের বেশ কিছু বাসিন্দা মাঝেমধ্যেই এসে উঁকি দিয়ে যাচ্ছেন দুর্গা পিতুরিতে। আসলে আতঙ্ক পিছু ছাড়ছে না তাঁদের।

    বেলার দিকে মেট্রো রেলের এক কর্মীকে দুর্গা পিতুরি লেনে ঢুকতে দেখেই ছুটে এলেন পাশের পাড়ার এক যুবক। তাঁর সরাসরি প্রশ্ন, ‘আপনাদের কাজের জন্য আমাদের বাড়িতে কোনও প্রভাব পড়বে না তো?’

    প্রায় আড়াই বছর আগের স্মৃতি ফিরে এসেছে বউবাজারের এই এলাকায়। চায়ের দোকান থেকে মাছের বাজার— সর্বত্রই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুর্গা পিতুরি লেন। নতুন করে কোনও বাড়িতে ফাটল ধরল কি না, যে সব বাড়িতে ফাটল ধরেছে সেগুলির কী অবস্থা, কোন বাড়ির লোক কোন হোটেলে উঠেছে, বাড়িগুলি কি ভেঙে পড়তে পারে— এমন কত কী উঠে আসছে সেইসব আলোচনায়। চাপা আতঙ্ক সবার মনেই। হিদারাম ব্যানার্জি লেন থেকে দুর্গা পিতুরিতে ঢোকার মুখে প্রথম বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন গৃহকর্তা। তিনিই বললেন, ‘প্রতিবেশীরা একে একে হোটেলে গিয়ে উঠেছেন। আমার বাড়িতে এখনও ফাটল ধরেনি। তবে চার বাড়ি আগেই দেওয়ালে চিড় ধরেছে। আমরা এখানে কতদিন নিরাপদে থাকতে পারব, জানি না।’

    বেলা পড়তেই দুর্গা পিতুরি লেনের মুখে দাঁড়িয়ে উঁকি দিচ্ছিলেন পাশের মদন দত্ত লেনের বাসিন্দা অভিনব গুপ্তা। তাঁর কৌতূহল দূর করতে এগিয়ে আসেন গলির মুখে পাহারায় বসা পুলিসকর্মী। বলেন, ‘কী দেখছেন, এ পাড়ায় ঢুকতে পারবেন না।’ অভিনব বাড়ির ফাটল দেখার আব্দার জানিয়ে কাকুতি মিনতি করলেও তাতে ছাড় দেননি ওই পাহারাদার। পুলিসের সাফ জবাব, ‘না, যেতে পারবেন না। নিরাপত্তার কারণে গার্ডরেল দিয়ে আটকানো রয়েছে। আপনি দেখে কী করবেন?’ অভিনবের প্রশ্ন, ‘আমি পাশের পাড়ায় বয়স্ক বাবা-মাকে নিয়ে থাকি। আমাদের ওদিকে কিছু হবে না তো?’ জবাব নেই পুলিসের মুখে। শুধু বললেন, মেট্রো কর্তৃপক্ষকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন, আমাদের প্রশ্ন করে লাভ কী। অভিনবের মতো একই প্রশ্ন স্যাঁকরাপাড়া ও গৌর দে লেনের বাসিন্দাদেরও। ঘরে-বাইরে আলোচনা— ভোটার কার্ড, আধার কার্ড যত্ন করে রাখ। যে কোনও সময় ডাক পড়তে পারে। পাড়ার রক থেকে কলতলা— সর্বত্রই উদ্বেগ, আতঙ্কের ছবি। 

    শুক্রবার দুর্গা পিতুরি লেনে নতুন করে একটি বাড়িতে ফাটল দেখা গিয়েছে। এমনই অভিযোগ করছেন ওই বাড়ির বাসিন্দা ঋতু শর্মা। তাঁর এই দাবির কথা শুনে প্রতিবেশীদের আতঙ্ক আরও বেড়েছে। শর্মা পরিবার এদিন ওই বাড়ি ছেড়ে উঠেছে পার্ক সার্কাসের একটি ভাড়াবাড়িতে। বিকেলে অকুস্থলে আসেন স্থানীয় বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। মেট্রো কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ঘরছাড়াদের সঙ্গে মেট্রোর আধিকারিকরা কথাই বলছেন না। শুধু অন্যত্র স্থানান্তর করলেই কি তাঁদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় নাকি? 

    এদিন কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছে, এই ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। শিয়ালদহ-এসপ্ল্যানেড রুটে পরবর্তী পর্যায়ের কাজের জন্য একটি টেকনিক্যাল রোড ম্যাপ তৈরি করা হবে। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত মোট ন’টি বাড়ি থেকে ১৪১ জনকে হোটেলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)