বেলগাছিয়া নয়! হাওড়ার জঞ্জাল ফেলার বিকল্প জায়গা ঠিক হল, ঝকঝকে হবে শহর
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৬ মার্চ ২০২৫
বেলগাছিয়ার ভাগাড় নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। একদিকে ভাগাড়ের সমস্যা, অন্যদিকে পানীয় জলের সমস্য়া সব মিলিয়ে একেবারে জটিল পরিস্থিতি। তবে এবার বিকল্প ব্যবস্থা করা হচ্ছে জঞ্জালের জন্য। সেই সঙ্গেই এবার বেলগাছিয়ার ভাগাড়ের পরিবর্তে নতুন বিকল্প জায়গায় আবর্জনা ফেলা হবে।
এদিকে বেলগাছিয়ার ভাগাড়ের জায়গায় নতুন বিকল্প জায়গায় সন্ধান পেয়েছে হাওড়া পুরসভা। আপাতত বেলগাছিয়ায় জঞ্জাল ফেলা বন্ধ করা হয়েছে। সেই জায়গায় নতুন বিকল্প জায়গার সন্ধান মিলেছে।
ক্রমশ ঘিঞ্জি হয়ে গিয়েছে হাওড়া। তার সঙ্গেই আবর্জনার স্তুপ। শহরের বিভিন্ন জায়গায় জমা হয়েছে আবর্জনা। দিনের পর দিন ধরে বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে জমা হয়েছিল আবর্জনা। একেবারে জঞ্জালের স্তুপ। এদিকে বেলগাছিয়ার ভাগাড়ের আবর্জনার জেরে একের পর এক সমস্যা তৈরি হতে থাকে। পাইপ ফেটে যায়। একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। বাসিন্দাদের মধ্য়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। তবে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হয়, ভাগাড়ের একাংশেই ঘর তৈরি করা হয়েছে। সেখানকার জমি ঠিকঠাক নেই। সেকারণে তার উপরে ঘর তৈরি করলে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যা হওয়ার কথা। সেটাই হয়েছে।
তবে এবার বিকল্প জায়গার সন্ধান মিলেছে। সোমবার এলাকায় গিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এদিকে বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলার কাজ বন্ধ করা হয়। এর জেরে শহরের বিভিন্ন জায়গায় আবর্জনা জমছিল। তবে এবার আর সমস্যা হবে না। এবার বেলগাছিয়ার পরিবর্তে নতুন জায়গায় আবর্জনা ফেলা হবে। এবার শিবপুর বিধানসভার আরুপাড়া এলাকায় আবর্জনা ফেলা হবে। শহর থেকে আবর্জনা নিয়ে ফেলা হবে সেই নতুন জায়গায়।
এদিকে রেডক্রশের প্রতিনিধিরা এলাকায় গিয়েছিলেন। রেড ক্রসের রাজ্য শাখার প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মন্দিরা চক্রবর্তী জানান, তাঁরা দুর্গতদের পাশে থাকবেন।
মন্দিরা বলেন, ভাগাড় বিপর্যয়ের ফলে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা। তাঁরা ভয়ে বাড়িতে বাচ্চাদের ফেলে রেখে কাজে যেতে পারছেন না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার খাচ্ছেন, পানীয় জল ব্যবহার করছেন। এর ফলে যাতে তাঁরা গুরুতর অসুস্থ হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে রেড ক্রসের তরফে এলাকায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্প করার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি, মহিলাদের জন্য কিছু ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী এবং রোজের সংসারে ব্যবহৃত কিছু অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যাতে এই পরিবারগুলিকে সরবরাহ করা যায়, সেই চেষ্টাও করা হবে।
তবে ভাগাড়ের বিকল্প জায়গার জেরে কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন সাধারণ মানুষ। কারণ বেলগাছিয়ার ভাগাড় সমস্যা প্রভাব ফেলেছে গোটা শহরের উপর। একাধিক জায়গা থেকে আবর্জনা পরিষ্কার করা যাচ্ছে না। মূলত কোথায় আবর্জনা ফেলা হবে সেই সংক্রান্ত জটিলতা কাটছিল না। তবে এবার কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে।