• হোটেলের তেল-মশলার খাবার বয়স্কদের আর কতদিন খাওয়াব? চিন্তায় ঘরছাড়ারাস্বাস্থ্য নিয়ে মাথাব্যথা বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ১৪ মে ২০২২
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেট্রোর কাজে বিপত্তির জেরে জন্য মাথার উপর থেকে ছাদ সরে গিয়েছে দু’দিন আগেই। এবার খাওয়া-দাওয়াও বোধহয় ছাড়তে হবে হোটেলের রান্নার দৌলতে। দুর্গা পিতুরি লেনের ঘরছাড়া বাসিন্দাদের উপলব্ধি এটাই। 

    বউবাজারে একাধিক বাড়িতে ফাটলের ঘটনায় ঘরছাড়া ১৪১ জন। তাঁদের আশপাশের মোট চারটি হোটেলে নিয়ে গিয়ে তুলেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। প্রতিটি পরিবারেই কেউ না কেউ বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। কারও হাই-সুগার, কেউ আবার হাই ব্লাড প্রেশারের ভুগছেন। কোভিড থেকে সবে সেরে উঠেছেন এমন মানুষও রয়েছেন এই তালিকায়। গ্যাস-অম্বল, পেটের সমস্যা কমবেশি সকলেরই রয়েছে। এমন অবস্থায় দিনের পর দিন হোটেলের খাবার কতটা স্বাস্থ্য উপযোগী? প্রশ্ন তুলছেন এইসব পরিবারের সদস্যরা। হোটেলের তেলে-ঝালে রান্না উল্টে বিপদ ডেকে আনবে না তো? এমন নানা দুশ্চিন্তা গ্রাস করেছে দুর্গা পিতুরি লেনের ঘরছাড়াদের। 

    ১/৪ নম্বর বাড়ি। বৃহস্পতিবার মেট্রো ও পুলিস দুর্গা পিতুরি লেনের এই বাড়ি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর শুক্রবার সকালে বাড়ি মালিক দেখেন, উপরের ঘরের দেওয়ালে নতুন করে চিড় ধরেছে। এই বাড়িতে থাকেন রঞ্জিত শর্মা (৭৯) ও তাঁর স্ত্রী সুনেভা শর্মা (৭০)। পুত্রবধূ ঋতু শর্মা জানালেন, তাঁরা দু’জনেই কয়েকদিন আগে কোভিড থেকে সেরে উঠেছেন। সেই সময় তাঁদের পেটের সমস্যা হয়েছিল। ডাক্তার বলেছেন তেল-ঝাল একেবারে বারণ। কিন্তু বললে কী হবে, এখন তো আর উপায় নেই। মেট্রোর কাজের দৌলতে হোটেলে বসে ওই তেল-ঝাল-মশলার খাবারই গিলতে হচ্ছে আমাদের। শ্বশুর-শাশুড়িকে তো আর ওই সব খাওয়াতে পারব না। তাই নিরুপায় হয়ে নিজেদের খরচে পার্ক সার্কাসে একটি ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থা করেছি। উদ্দেশ্য একটাই, হোটেলের খাবার থেকে বয়স্কদের দূরে রাখা। 

    ১৯ নম্বর বাড়ির ভাড়াটিয়া সন্দীপ সাউয়ের অভিযোগ, ক্রিক রো’র যে হোটেলে আমাদের থাকতে দেওয়া হয়েছে, সেখানে খাবারের মান ভালো নয়। অত্যধিক তেল-মশলা দিয়ে রান্না করা হচ্ছে মাছ-মাংস। ঘরে বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন। কীভাবে তাঁদের এইসব খাবার খাওয়াব? সন্দীপের বক্তব্য, এক-দু’দিনের বিষয় হলে ঠিক ছিল। কিন্তু, কবে যে বাড়ি ফিরতে পারব, তার নিশ্চয়তা নেই। হোটেলের খাওয়া-দাওয়াই এখন গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে দেখা দিয়েছে।

    ক্রিক রো’র হোটেলে উঠেছেন রাজকুমার চৌরাসিয়া। তিনি বললেন, হোটেলের ভাত আর বাড়ির ভাতের মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। এখানে চাল ঠিকমতো সিদ্ধ করা হয় না। বয়স্কদের অনেকেরই দাঁতের সমস্যা রয়েছে। ফলে চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হচ্ছে। তাঁর মা, বুচিদেবী চৌরাসিয়ার বয়স ৭০ বছর। তিনি বলেন, মাথার উপর থেকে ছাদটাই চলে গিয়েছে। এবার হোটেলের তেল-মশলার খাবারের জন্য বোধহয় খাওয়া-দাওয়াও ছাড়তে হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)