'ডেস্টিনেশন এখন বাংলা', লন্ডনে দাঁড়িয়ে অবাঙালি শিল্পপতিদের বিনিয়োগে আহ্বান মমতার
আজ তক | ২৬ মার্চ ২০২৫
লন্ডনে একগুচ্ছ ঠাসা কর্মসূচি নিয়ে গিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পর পর অনুষ্ঠানে যোগ দান করছেন তিনি। মঙ্গলবার লন্ডনের বুকে বাংলায় বিনিয়োগ টানতে শিল্প সম্মেলন করেন মমতা। সেখান দেউচা-পাচামির প্রসঙ্গ টেনে ব্রিটেন থেকে লগ্নির আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী বলেন ' কলকাতা নিরাপদ শহর, তাই এখানে থাকতে সবাই খুব ভালবাসে। আমাদের সময়ে কোনও কর্মদিবস নষ্ট হয় না, আগের জমানায় হত। আগে বিদ্যুতের সমস্যা ছিল কিন্তু এখন আর এসব নেই। বাংলায় ৪৬ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে। দেউচা পাচামিতে প্রচুর কর্মসংস্থান হবে, দেউচা-পাচামি হলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের সমস্যা হবে না। পশ্চিমবঙ্গে ৬টি ইকোনমিক করিডর হবে। বাংলায় ২ হাজার ৮০০ তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি রয়েছে।' এভাবেই ব্রিটিশ শিল্পপতিদের কাছে বাংলায় বিনিয়োগের আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, বাংলায় সবার ধর্ম প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সেইসঙ্গে ব্রিটেনের মাটিতে দাঁড়িয়ে পূর্বতন বাম সরকারকে নিশানা করেছেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্বতন সরকারের জন্য বাংলা তার গরিমা হারিয়েছে। এই জমানায় সেই গরিমা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পর্যটন শিল্পে এগিয়ে বাংলা। ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পে বাংলা শীর্ষে।
শিল্প বৈঠকে কলকাতা থেকে লন্ডন সরাসরি বিমান পরিষেবা চালুর জন্য ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের কাছে আর্জি জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জ্বালানির ওপর কর মকুবেরও প্রস্তাবও রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। লন্ডন থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বিমান পরিষেবা চালু হোক। সোমবার লন্ডনের হাই কমিশনের পর মঙ্গলবার বণিকসভাতেও একই আর্জি জানাতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায়, ”কলকাতা-বিমান সরাসরি বিমান চালু করুন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজকে বিনীত অনুরোধ। যাঁরা প্রথম আসবেন, তাঁদের জ্বালানিতে ছাড় দেব। অন্ডালে গ্রিন এয়ারপোর্ট চালু হয়েছে। একটাও সিট খালি থাকবে না। আমরা প্রতিদিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি।” সেই সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে এই বিমান পরিষেবা ছিল। আমরা ক্ষমতায় আসার আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কেন জানি না। তবে এখন বিমানের সমস্ত আসন ভর্তি থাকে। এই পরিষেবা চালু করলে আপনাদের ব্যবসা বাড়বে। আমরা জ্বালানিতে ছাড় দিয়ে দেব। যারা প্রথম এগিয়ে আসবে তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে।”
মঙ্গলবার লন্ডনেরবুকে শিল্প বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্রমোহন ধানুকা (এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান, ধানসিঁড়ি ভেঞ্চারস), হর্ষবর্ধন আগরওয়াল (প্রেসিডেন্ট, ফিকি, ভাইস চেয়ারম্যান, ইমামি গ্রুপস), হর্ষবর্ধন নেওটিয়া (চেয়ারম্যান, অম্বুজা নেওটিয়া গ্রুপ), কে কে বাঙ্গুর (গ্রাফাইট ইন্ডিয়া), মেহুল মোহানকা (এমডি, টেগা ইন্ডাস্ট্রিজ), প্রশান্ত বাঙ্গুর (চেয়ারম্যান, ফিকি, WBSC, ভাইস চেয়ারম্যান, শ্রী সিমেন্টস), প্রশান্ত মোদি (ভাইস চেয়ারম্যান ও এমডি, GEECL), রুদ্র চট্টোপাধ্যায় (এমডি, লক্ষ্ণী গ্রুপ, চেয়ারম্যান, OBEETEE), সঞ্জয় বুধিয়া (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, প্যাটন ইন্টারন্যাশনাল), সত্যম রায়চৌধুরী (চ্যান্সেলর, সিস্টার নিবেদিতা বিশ্ববিদ্যালয়), শাশ্বত গোয়েঙ্কা (ভাইস চেয়ারম্যান, আরপি-সঞ্জীব গোয়েঙ্কা গ্রুপ), তরুণ ঝুনঝুনওয়ালা (প্রেসিডেন্ট, রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ), উজ্জ্বল সিনহা (এমডি, জেনেসিস অ্যাডভারটাইজিং), উমেশ চৌধুরী (ভাইস চেয়ারম্যান অ্যান্ড এমডি, টিটাগড় রেল সিস্টেমস), জ্যোতি ভিজ (ডিরেক্টর জেনারেল, ফিকি) এবং মৌসুমী ঘোষ (ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল, ফিকি)। শিল্প সম্মেলনে বাংলার শিল্পপতিরা বদলে যাওয়া বাংলার ছবি তুলে ধরেন। তাঁদের মুখে ছিল বাম আমলের সঙ্গে আজকের বদলে যাওয়া বাংলার কথা। সঞ্জয় বুধিয়া, মেহুল মোহঙ্কারা বললেন, বাম আমলের মতো আর পরিবেশ নেই। এটা দিদির তৈরি নতুন বাংলা, সেরা বাংলা। শিল্পবান্ধব এবং বিনিয়োগের আদর্শ পরিবেশ রয়েছে এখানে। ধর্মঘট, লকআউট কিছু হয়না আর। মসৃণভাবে কাজের ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা নেই।
বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "বাংলায় বিনিয়োগ করলে আপনি লাভবান হবেন, কারণ এখানে টেনশন নেই, স্ট্রেস নেই। শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নত পরিকাঠামো রয়েছে। ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের জন্য বাংলা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।"