ইদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ৩১ মার্চ কলকাতায় ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কলকাতা পুলিশ। ভোর ৪টে থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত শহরের একাধিক রাস্তায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া, ট্রাম পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।
পণ্যবাহী গাড়ির জন্য কড়াকড়ি
উৎসবের দিনে শহরের ভেতরে সকাল ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সমস্ত পণ্যবাহী গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। তবে, এলপিজি সিলিন্ডার, পেট্রোলিয়াম পণ্য, অক্সিজেন, ওষুধ, শাক-সবজি, মাছ, ফল ও দুধ পরিবহনকারী গাড়িগুলি এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। কলকাতা ডক সিস্টেমেও এই সময়ের মধ্যে পণ্যবাহী গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
৩১ মার্চ বন্ধ থাকবে রেড রোড
ইদের আয়োজনের কারণে ৩০ মার্চ রাত ১০টা থেকে ৩১ মার্চ দুপুর ১২টা পর্যন্ত কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রেড রোড সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। বিশাল সংখ্যক মানুষের জমায়েত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে যে রাস্তায় ট্র্যাফিক নিষেধাজ্ঞা থাকবে
কলকাতা পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী, ৩১ মার্চ ভোর ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
নারকেলডাঙা মেন রোড
মানিকতলা মেন রোড
গ্রে স্ট্রিট
আরজি কর রোড
এম এন চ্যাটার্জি স্ট্রিট
রাজা দীনেন্দ্র স্ট্রিট
উত্তর শিয়ালদহ রোড
বেলগাছিয়া রোড
পার্ক স্ট্রিটসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা
ট্র্যাফিক পুলিশ রাস্তার মোড়ে মোড়ে উপস্থিত থাকবে, যাতে গাড়ি চালক ও পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হয়।
ট্রাম পরিষেবা সাময়িক বন্ধ
কলকাতার লেনিন সরণি ও রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে ৩১ মার্চ সকাল ৪টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ট্রাম চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।
বাসস্ট্যান্ড ও অতিরিক্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা
কলকাতার এসপ্ল্যানেড বাস স্ট্যান্ড চালু থাকবে, তবে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসগুলো নিউ রোড ও ডাফরিন রোড দিয়ে প্রবেশ করবে এবং আর. আর. অ্যাভিনিউ ও ট্রাম লাইন ধরে বের হবে, যাতে পথচারী ও যানবাহনের সংঘর্ষ এড়ানো যায়।
ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত ব্যবস্থা
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে অন্যান্য প্রধান ও সংযুক্ত রাস্তাগুলিতে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে। উৎসবের সময় শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ও জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা করবে।
শহরবাসীদের অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন বিকল্প রুট ব্যবহার করেন এবং ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলেন, যাতে ইদ-উল-ফিতরের উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপন করা যায়।