তপন দেব: ১০০ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের উত্তর ছ্যাকামারি গ্রামে বিশ্বকর্মা ঝোরাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছিল একটি পর্যটনকেন্দ্র।
Zee ২৪ ঘণ্টার সব খবরের আপডেটে চোখ রাখতে ফলো করুন Google News
২০২২ সালে তৎকালীন জেলাশাসক বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এর পাশাপাশি এই ছ্যাকামারি গ্রামের বিশ্বকর্মা ঝোরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে এই পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। ঝোরার পাশাপাশি বাঁশির একটি দিঘিকে কেন্দ্র করে মৎস্য দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় হারিয়ে যেতে বসা দেশীয় মাছ তাদের সংরক্ষণ ও চাষের উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
গ্রামের মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি পর্যটকদের মনোরম পরিবেশে রকমারি মাছের দৃশ্যও দেখতে পাবে। বিশাল আকার এই ঝোরায় পর্যটকদের জন্য ছিল সাইকেল বোটিং, ছিল বাহারি রকমারি ফুলের গাছও। দূর-দূরান্ত থেকে আসতো বিভিন্ন পাখি। কিন্তু এই দুই বছরে দেখভালের অভাবে ভেঙে পড়েছে গোটা প্রকল্পটি। পর্যটকরা এলে কিছুটা হতাশ হয়েই ফিরে যান। কেন এমন হাল হলো এই পর্যটন কেন্দ্রের।
মাদারিহাট ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক জানালেন ১০০ দিনের প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা যাচ্ছে না। ফলে নতুন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না। তবে জেলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে পর্যটন দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতা ও মৎস্য দপ্তরের আর্থিক সহযোগিতায় নতুন করে সাজানো যায় কিনা তার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য ও বনভূমি, তাই সমিতির কর্মাধ্যক্ষ দীপ নারায়ণ সিনহা জানান জেলা পরিষদের থেকে কোন আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া যায় কিনা এই পর্যটন কেন্দ্রটিকে নতুন করে সাজানো যায় কিনা তা সভাধিপতির কাছে আবেদন জানাবো।
স্থানীয় মহিলা সমবায় সমিতি সদস্যরা জানাচ্ছেন, একটা সময় খুব ভালো চলতো এই পর্যটন কেন্দ্রটি। কিন্তু নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ ভগ্ন দশায় পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এলে হতাশ হয়ে ফিরে যান। বহু টাকার টিকিট বিক্রি হতো এই পর্যটন কেন্দ্রে। সমবায়ের কিছু সদস্যরা এই পর্যটন কেন্দ্রের অর্থ নয় ছয়ের করারও অভিযোগ রয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে জলদাপাড়া কেন্দ্রিক পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি এই বিশ্বকর্মা ঝোরা পর্যটন কেন্দ্রটি আবার কবে নতুন করে চালু হয় সেদিকেই তাকিয়ে সকলে।