মৃত্যুঞ্জয় দাস: ফের ভুয়ো ভোটারের হদিশ! যেমন তেমন নয়, সে আবার এক 'কেলেঙ্কারি কাণ্ড'! দুই মহিলা ভোটারের স্বামীর নাম এক! ভোটার তালিকা নিয়ে বুথে ঘুরে একটি বুথে এমনই ৬ জন ভুয়ো ভোটারের হদিশ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। অভিযোগ, কোথাও তালিকায় দুই মহিলা ভোটারের স্বামীর নাম এক! আবার কোথাও কারও নাম তালিকায় থাকলেও, বাস্তবে তাঁর কোনও অস্তিত্ব-ই নেই! বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শ্যামসুন্দরপুর বুথের ঘটনা। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হয়ে গিয়েছে।
দলের নির্দেশ, সারা রাজ্যের পাশাপাশি বাঁকুড়া জেলার তালডাংরা ব্লকেও তৃণমূল কর্মীরা ভুয়ো ভোটার ধরতে ভোটার তালিকা হাতে গ্রামে গ্রামে ঘুরছেন। আর সেই কাজ করতে গিয়ে এবার শ্যামসুন্দরপুর বুথে যে ছবি উঠে এসেছে, তাতে চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় বলে দাবি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। তাঁদের দাবি, ওই বুথে ১১২১ জন ভোটারের যে তালিকা রয়েছে তার মধ্যে ৬ জনের নাম ও তথ্য সন্দেহজনক। তাঁরা সকলেই ভুয়ো ভোটার বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
তালিকায় দীপান্বিতা ভট্টাচার্য ও জুহি ভট্টাচার্য এই দুই মহিলা ভোটারের স্বামীর হিসাবে নাম উল্লেখ রয়েছে শাস্বত ভট্টাচার্যর। অথচ স্থানীয়দের দাবি, ওই বুথে ভট্টাচার্য পদবীধারী কোনও মানুষ-ই নাকি থাকেন না। তালিকায় পূজা ভুঁই ও অষ্টমী মাঝি সহ একাধিক ভোটারের নাম থাকলেও এলাকার কেউ-ই তাঁদের চেনেন না বা কোনওদিন দেখেননি বলে দাবি। তালিকায় এমন ভূতুড়ে তথ্য চোখে পড়তেই তা নিয়ে শোরগোল শুরু হয়েছে।
তৃণমূলের দাবি, এভাবেই ভৃতুড়ে ভোটারের উপর ভর করেই কেন্দ্রে সরকার গড়েছে বিজেপি। সামনের বিধানসভা নির্বাচনেও এই ভোটারদের তালিকায় রেখে দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক স্বার্থে। বিজেপি অবশ্য পালটা এর দায় পুরোপুরি চাপিয়ে দিয়েছে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারের কাঁধে। বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের সমস্ত দায়িত্ব রাজ্য সরকারের। তাই তাতে ভুল বা গরমিল থাকলে তার সমস্ত দায় রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকেই বহন করতে হবে।