এবার গ্রেফতার ৫ সিআইএসএফ কর্মী–সহ ৮ জন, আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত, ডাকাতির অভিযোগ
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৬ মার্চ ২০২৫
এবার সিআইএসএফ কর্মীদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ উঠল। তাদের মধ্যে একজন আবার আরজি কর হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। এবার তাদের এই গ্যাং ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে ডাকাতি করল বলে অভিযোগ উঠেছে। ২৫ ভরি সোনা থেকে শুরু করে ৩ লক্ষ টাকা লুঠপাটের অভিযোগে এবার গ্রেফতার করা হল ওই পাঁচজন সিআইএসএফ কর্মী–সহ ৮ জন। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতার হওয়া কর্মীদের মধ্যে একজন আবার চার মাস আগে আরজি কর হাসপাতালে কর্মরত ছিল। চিনার পার্কের একটি আবাসনে তারা ডাকাতি করে বলে অভিযোগ।
এই ডাকাতির অভিযোগ থানায় জমা পড়তেই পুলিশ তদন্তে নেমে পড়ে। এক মহিলা এসে এমন অভিযোগ করার জেরে তা হয়ে ওঠে অত্যন্ত সিরিয়াস ইস্যু। পুলিশ সূত্রে খবর, চিনার পার্কের এই আবাসনে স্ত্রী এবং মেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন আরপি সিং নামে এক ব্য়ক্তি। এই আরপি সিং পেশায় ছিলেন প্রোমোটার। কয়েক বছর আগে প্রয়াত হয়েছেন আরপি সিং। সুতরাং মা–মেয়ের সংসার। এই অবস্থায় গত ১৭ মার্চ ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে হানা দেয় কয়েকজন এই আরপি সিংয়ের ফ্ল্যাটে। তারপর ২৫ ভরি সোনার গয়না এবং নগদ ৩০ লক্ষ টাকা লুঠ করে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। তারপর এই ঘটনা নিয়ে বাগুইহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রয়াত প্রোমোটারের স্ত্রী।
তবে শুরু থেকেই এই ঘটনা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। কারণ ইনকাম ট্যাক্সের অফিসাররা এভাবে জোর করে ঢোকে না। তারপর পুলিশকে জানিয়ে অপারেশনে যায়। যাতে নিরাপত্তা মেলে। আর ইনকাম ট্যাক্স অফিসাররা সোনার গয়না, নগদ টাকা নিয়ে চম্পট দেয় না। এখান থেকেই সন্দেহের শুরু। তারপর তদন্তে নেমে বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ। বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর কলকাতা থেকে দু’জন এবং পরে ফরাক্কা থেকে সিআইএসএফের ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার অফিসার অমিত কুমার সিংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতার করা হয় আরও দুই সিআইএসএফ কর্মী–সহ মোট ৮ জনকে। এখনও বেশ কয়েকজন অধরা। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।
পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনার তদন্তে নামতেই বেশ কয়েকটি সূত্র মেলে। তার উপর ভিত্তি করে এগোতেই সকলে ধরা পড়ে যায়। ধৃত সিআইএসএফ কর্মী সিনিয়র ইন্সপেক্টর অমিত কুমার সিং, কনস্টেবল লক্ষ্মী কুমারী চৌধুরী, বিমল থাপা, হেড কনস্টেবল রামু সরোজ এবং আর জনার্দন সাউ। এদের মধ্যে কনস্টেবল লক্ষ্মী কুমারী চৌধুরী চার মাস আগে আরজি কর হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন বলে খবর। এই গোটা অপারেশনের নেপথ্যে রয়েছেন পরিবারের কোনও সদস্য়। কিন্তু ওই ফ্ল্যাটে ইনকাম ট্যাক্স অফিসার সেজে ডাকাতির নেপথ্যে বড় কোনও চক্র আছে বলে মনে করছে পুলিশ।