‘বেলগাছিয়ার ৯৬টি পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ বানিয়ে দেওয়া হবে’, ঘোষণা পুরমন্ত্রীর
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৬ মার্চ ২০২৫
বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ধস নেমে পড়েছে। আর এই ঘটনায় একদিকে যেমন বাসিন্দারা বিপদে পড়েছেন তেমন বিরোধী দল বিজেপি এখানে এসে এই ইস্যুতে ফায়দা তুলতে চেষ্টা করেছে। হাওড়া জেলার অন্তর্গত বেলগাছিয়া এলাকায় পরিদর্শন করেছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তারপরই গৃহহারা বাসিন্দাদের জন্য ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে নতুন বাড়ি তৈরি করে দেবে রাজ্য সরকার। এমনই ঘোষণা করেছেন ফিরহাদ হাকিম। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে সল্টলেকের উন্নয়ন ভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। সেখানেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকী বেলগাছিয়া ভাগাড়ে যে আবর্জনার পাহাড় জমেছে সেটিকে কমিয়ে ফেলার সিদ্ধান্তও হয়েছে।
দু’দিন আগেই এখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এসেছিলেন। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে গিয়েছিলেন। হাওড়ার বেলগাছিয়া অবহেলিত বলে অভিযোগ তুলে ছিলেন। এবার এখানে আবর্জনার পাহাড় সরানোর জন্য বায়ো মাইনিং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানো হবে বলে সূত্রের খবর। আর এই বর্জ্যকে কাজে লাগিয়েই এখানে জৈব সার থেকে শুরু করে বায়ো গ্যাস, প্লাস্টিক এবং লোহার নানা জিনিসপত্র তৈরি হবে। ধাপার মতো বেলগাছিয়া ভাগাড়ে গড়ে তোলা হবে গ্রিন ফিল্ড বলে জানা গিয়েছে। এই নিয়ে একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকের পর পুরমন্ত্রী জানান, আবাস যোজনা প্রকল্পে হাওড়ার বেলগাছিয়ার মোট ৯৬টি পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ বানিয়ে দেওয়া হবে।
এখানে এখন পরিস্থিতি সামলাতে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। হাওড়া শহরের নিকাশি এবং জঞ্জাল সাফাই করার ব্যবস্থা নিয়েও বৈঠক হয়েছে। এখানের সমস্যা নিয়ে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে বিশদে জানান হাওড়া পুরসভার অফিসাররা। আর গোটা বিষয়টি নিয়ে পুরমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাওড়ায় যে সব বড় নিকাশি নালা আছে সেগুলির আমূল সংস্কার প্রয়োজন। রাস্তাঘাটেরও উন্নয়ন করতে হবে। এই কাজগুলি যাতে দ্রুত হয়, সেটা কেএমডিএ’কে দেখতে বলা হয়েছে।’ বেলগাছিয়া ভাগাড়ের আমূল পরিবর্তন করতে একগুচ্ছ উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন পুরমন্ত্রী। তার মধ্যে রয়েছে বায়ো মাইনিং প্রকল্প।
এখানের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বায়ো মাইনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বর্জ্যের পাহাড়কে কমিয়ে ফেলা হবে। তাই পাঁচ বছর সময় লাগবে। বর্জ্যকে এবার কাজে লাগিয়ে জৈব গ্যাস, প্লাস্টিকের চেয়ার–টেবিল তৈরি হবে। জঞ্জালের পাহাড়কে গ্রিন ফিল্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। গত কয়েক বছরে পালটে গিয়েছে ধাপাও। ধাপার বড় অংশে বায়ো মাইনিং পদ্ধতি ব্যবহার করে জঞ্জালের স্তূপের উপর কৃত্রিম পদ্ধতিতে বসেছে সবুজ ঘাস। যাতে এখন ধাপাকে দেখে বাগিচার মতো লাগে। এই বিষয়ে পরিবেশ কর্মী সুভাষ দত্তের বক্তব্য, ‘রাজ্য সরকার যেটা করতে চাইছে সেটা সত্যিই বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন অনেক কর্মসংস্থান হবে অপরদিকে তেমন লাগোয়া এলাকায় বায়ু দূষণ কমবে।’ আর পুরমন্ত্রীর কথায়, ‘রাজ্যে যে সব ডাম্পিং গ্রাউন্ড আছে সব জায়গায় বায়ো মাইনিং করা হবে। বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করার জন্য পৃথক প্লান্ট গড়ে তোলা হবে। আর বেলগাছিয়ার ৯৬টি পরিবারকে ‘বাংলার বাড়ি’ বানিয়ে দেওয়া হবে।’