• এবার GI স্বীকৃতি পাবে চানাচুর, রাবড়ি, বোঁদে! কদর বাড়বে বিশ্ব বাজারে
    হিন্দুস্তান টাইমস | ২৬ মার্চ ২০২৫
  • অনেক লড়াই করে ভৌগোলক স্বীকৃতি আদায় করতে হয়েছিল বাংলার রসগোল্লাকে। তথ্য বলছে, সেখানেই থেমে থাকেনি রাজ্য প্রশাসন। বস্তুত, আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে এমন বহু পণ্য রয়েছে, যেগুলির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের কদর বাড়াতে জিআই ট্যাগ আদায় করে নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।

    এই সমস্ত পণ্যের মধ্যে নানা ধরনের খাবারও রয়েছে। সেই তালিকার অন্যতম হল - বাঙালির অতি প্রিয় নিজস্ব 'স্ক্যাক্স' চানাচুর! রয়েছে - হুগলির রাবড়ি গ্রামের রাবড়ি এবং কামারপুকুরের সাদা বোঁদে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে খুব শীঘ্রই জিআই স্বীকৃতি আদায় করতে সক্ষম হবে এই খাদ্যপণ্যগুলি। আর, সেটা সম্ভব হলে কলকাতা তথা বাংলার রসগোল্লা, জয়নগরের মোয়া, সুন্দরবনের মধু কিংবা দার্জিলিংয়ের চায়ের সঙ্গেই এক আসনে জায়গা করে নেবে বাঙালির অতি প্রিয় এই খাবারগুলি।

    রাজ্য সরকারের হিসাব ও দাবি অনুসারে, বর্তমানে বাংলায় জিআই ট্যাগ পাওয়া পণ্য রয়েছে মোট ২৭টি। এবং আরও অন্তত ১৮টি পণ্য আগামী দিনে জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। প্রসঙ্গত, এক্ষেত্রে সাদা বোঁদে কিংবা রাবড়ির নির্দিষ্ট উৎসস্থল থাকলেও চানাচুরের তেমন কোনও স্থানভিত্তিক পরিচয় নেই। বস্তুত, সারা বাংলাতেই চানাচুর তৈরির অসংখ্য কারখানা রয়েছে। তাই, জিআই ট্যাগ পেলে তা 'বাংলার চানাচুর' হিসাবেই পাওয়া যাবে।

    জিআই স্বীকৃত পেতে হলে তার জন্য অনেক গবেষণা করার দরকার হয়। জিআই ট্যাগ কীসের ভিত্তিতে চাওয়া হচ্ছে, সেই তথ্যের স্বপক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রমাণ পেশ করতে হয়। আর, এই সমস্ত কাজ যেসব প্রতিষ্ঠানগুলি করে, তার মধ্যে অন্যতম হল - রাজ্যের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব জুড়িডিক্যাল সায়েন্স ।

    বিষয়টি নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় যে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, সেখানে এনইউজেএস-এর মেধাসত্ব সংক্রান্ত বিষয়ের চেয়ার প্রফেসর তথা জিআই বিষয়ক ক্ষেত্রের প্রধান পিনাকী ঘোষ বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

    তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'আমরা বাংলার চানাচুর এবং হুগলির রাবড়ি গ্রামের রাবড়ির জন‍্য আবেদন করছি। বাংলার চানাচুর কোনও বিশেষ এলাকা, সংস্থা বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছোট ছোট কারিগর ও ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে যুক্ত। তাঁদের স্বার্থ রক্ষায় এই উদ‍্যোগ। জিআই পেলে এই ছোট ব‍্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই এখানে জিআই তকমাপ্রাপ্ত পণ‍্যের সংখ‍্যা বাড়বে।'

    সংস্থার জিআই কো-অর্ডিনেটর পার্থসারথী চক্রবর্তী জানান, 'বাংলার এমন বহু খাদ‍্যপণ‍্য আছে, যেগুলিকে বাঁচিয়ে রাখতে জিআই তকমা প্রয়োজন। সব পক্ষের সঙ্গে মিলে এই কাজ করছি। আরও বেশি পণ্যকে স্বীকৃতি দেওয়াই লক্ষ্য।'

    পার্থসারথী আরও জানিয়েছেন, পূর্ব মেদিনীপুরের কাজু সন্দেশ, মুর্শিদাবাদের বিশেষ ধরনের রসকদম্বের মতো আরও নানা ধরনের পণ্যের জিআই স্বীকৃতি আদায় করার জন্য কাজ চলছে।
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)