শুধু বাংলা বাকি আছে, নির্বাচনের পর তাও দখল করে নেব : অমিত শাহ
আজ তক | ২৭ মার্চ ২০২৫
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্যের ক্ষমতা দখল করবে বিজেপি। দাবি করেছিলেন অমিত শাহ। তারপর কেটে গেছে ৪ বছর। ২০২৬-এর শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গে ফের বিধানসভা নির্বাচন হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিজেপি-কে ক্ষমতায় আনা যে গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য, তা লোকসভায় দাঁড়িয়ে পরিষ্কার করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অমিত শাহ এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ আনেন। বলেন, দেশের বহু রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। রাজধানী দিল্লিও দখল করেছে। সেখানকার মানুষ এতদিন আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না। এবার থেকে পাবেন। তাঁরা চিকিৎসা ক্ষেত্রে ৫ লাখ টাকার সুবিধা পাবেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন একথা বলছেন তখন তৃণমূল সাংসদরা হই হট্টগোল শুরু করেন। ঠিক তখনই অমিত শাহ বলেন, 'দিল্লিতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গেও কমল ফুটবে। তখন সেই রাজ্যের মানুষও আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন।'
প্রসঙ্গত, বিধানসভা ভোট এখনও প্রায় এক বছর বাকি। কিন্তু ইতিমধ্যেই ভোটের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল ও পদ্ম শিবিরের মধ্যে আক্রমণ ও প্রতি আক্রমণের পালা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বিজেপি অন্তত ১৮০ আসন পাবে। যাকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল শিবির। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ভোটে গেরুয়া শিবির ৭৭ আসন পেয়েছিল বিজেপি। সেবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যাকে নন্দীগ্রাম আসন থেকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবারও তৃণমূল সুপ্রিমোকে বিজেপি প্রার্থী হারাবে, দাবি করেছেন শুভেন্দু।
এদিকে লোকসভায় দাঁড়িয়ে আজ অমিত শাহ তাঁদের পরিচালিত সরকারের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী এই সমবায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ করে ত্রিভুবন ভাই প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ২০১৪ সালে বিজেপির নেতৃত্বে এনডিএ সরকার গঠিত হয়েছিল। এই ১০ বছরের মধ্যে, দরিদ্রদের ঘর, শৌচাগার দেওয়ার কাজ হয়েছে। পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজও পাঁচ কেজি শস্য বিনামূল্যে দেওয়া হয়। গ্যাস সরবরাহের কাজ হয়েছে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ওষুধের সম্পূর্ণ খরচ মওকুফ করা হয়েছে।'
কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন অমিত শাহ। তিনি মোদী সরকারের আগমনের আগের এবং পরের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। বলেন, 'দেশের উন্নয়ন করতে গেলে গরীবদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। কিছু উদ্যোগ করতে হবে। বিনিয়োগ আনতে হবে। শিল্প বানাতে হবে। দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।'