কমলাক্ষ ভট্টাচার্য: 'ভক্ত ও ভগবানের মহামিলন'। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন বিজেপি অসীম সরকার। ছাব্বিশের আগে বেনজির কাণ্ড মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে।
ঘটনাটি ঠিক কী? আগামীকাল, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু বনগাঁয় ঠাকুরনগরের বিখ্যাত বারুণী মেলা। মতুয়াদের মহোত্সব। গতবার এই মেলাকে কেন্দ্র করে রীতিমতো আড়াআড়ি ভাগ হয়ে গিয়েছিল ঠাকুরবাড়ি। একদিনে ছিলেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, আর অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। এবাপ অবশ্য একসঙ্গে মেলা পরিচালনা করছেন দু'জনেই। তারমধ্যে এমন এক ঘটনা, যা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি।
আজ, বুধবার সন্ধ্যায় মতুয়াদের ঠাকুরবাড়িতে যান হরিণঘাটা বিজেপি বিধায়ক হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার। মমতাবালার সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এমনকী, তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেও দেখা যায় অসীমকে। তিনি বলেন, 'আমরা আজকে খুব আনন্দিত। সবাই মিলে রাজনৈতিক সমস্ত দল ভুলে গিয়ে, একসঙ্গে মহা বারুণী মেলা হচ্ছে। ভক্তেরা এটাই চেয়েছিল। রাজনীতি রাজনীতির জায়গা পড়ে থাকুক। আমার মা, ঠাকুর সবাই আমরা একসঙ্গে চলব'।
এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীকে জুড়তে রাজি নন মমতাবালাও। তিনি বলেন, 'বিধায়কের ব্যাপার নয়। ভক্ত ও ভগবানের মহামিলন। মা সন্তানের ব্যাপার। এই মিলনটাই তো আমরা চেয়েছিলাম। ভক্ত ভগবানে এসে এই মহামিলনের উত্সব। সংসার থাকলে গোলমাল হয়, ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা জগতের নিয়ম। ভক্তরা শান্তি পাক এটাই আমি চাই'।
এদিন বারুণী মেলা উপলক্ষ্যে গাড়ি নিয়ে ঠাকুরনগরে যান সুজিত বসু, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো তৃণমূল নেতা, মন্ত্রী, বিধায়করা। শান্তনু ঠাকুরের তোপ, তৃণমূলে যে নেতারা ঠাকুরবাড়িতে গাড়ি নিয়ে ঢুকেছে। ১৫-২০ গাড়ি নিয়ে প্রত্যেকটা মতুয়ার অসুবিধা হচ্ছে। মতুয়াদের ওরা মানুষ ভাবে না। এই ভিড়ের মধ্যে ১৫-২০ গাড়ি এই রাস্তায় ঢোকায়, কত বড় নবাবের বাচ্চা। এখন যদি মতুয়া বের করে দেয় ঘাড় ধাক্কা দিয়ে, কোথায় যাবে!নবাবি চাল, মতুয়া মেলায় ঢুকেছে'।