• শান্তনুর 'বোধদয়', মমতাবালার পা ছুঁচ্ছেন BJP-র অসীম, ঠাকুরবাড়িতে কী চলছে?
    আজ তক | ২৭ মার্চ ২০২৫
  • ঠাকুরনগরের ঠাকুর পরিবার ঘিরে রাজনীতির সমীকরণ ক্রমেই বেশ ইন্টারেস্টিং হয়ে উঠছে। ঠাকুরনগরের বহু প্রাচীন বারুণী মেলার দায়িত্ব ঘিরে আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর। মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপানিদেবীর ঘর দখলকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের এপ্রিলে মাঝরাতে চূড়ান্ত অশান্তি হয় গাইঘাটার ঠাকুরবাড়িতে। সেই সব এখন অতীত। আজ অর্থাত্‍ বৃহস্পতিবার থেকে বারুণী মেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের পুণ্যস্নান।

    শান্তনু বলছেন, 'বোধদয় হয়েছে'

    সেই মেলার দায়িত্ব মমতাবালার হাতেই বলে জানিয়ে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। খারিজ হয়ে গিয়েছে শান্তনু ঠাকুরের আবেদন। এহেন আবহে মিলনের বার্তা দিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর বললেন, 'আমার বোধদয় হয়েছে।' বুধবার সন্ধ্যায় আবার বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে সটান মমতাবালাকে পা ছুঁয়ে প্রমাণ করলেন। বললেন, 'মা তো মা-ই হয়।' সব মিলিয়ে বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে যা যা ঘটছে, বেশ তাত্‍পর্যপূর্ণ।

    অসীম সরকার মমতাবালাকে প্রণাম করছেন

    বারুণী মেলাকে কেন্দ্র করে মতুয়া মহাসঙ্ঘে মহামিলনের ছবি। মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ পুণ্যস্নান করবেন আজ। তার আগে বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকার গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়িতে।মমতাবালার পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে অসীম বলেন, 'ভক্তরা এটাই চেয়েছিল। রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় পড়ে থাকুক। মতুয়া পরিবার চায় আমরা সবাই একত্রিত হই। পিছনের কথা ভুলে সবাই ভুলে যান।' মমতাবালা বলেন, 'সংসার থাকলে ভুল বোঝাবুঝি হয়। এটা জগতের নিয়ম। হরিচাঁদের দর্শণ হল নারী-পুরুষ পাবে সমান অধিকার। তাই নারীশক্তির জয় হবেই।' ঠাকুরবাড়িতে গিয়েছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকরাও। বড়মার ঘরে প্রণাম করে সুজিত বসু বলেন, 'ধর্ম আর রাজনীতি দুটো আলাদা বিষয়। সকলে মিলে একসঙ্গে মেলা হচ্ছে। এটা মানুষের আবেগের মেলা। সামিল হতে পেরে আমিও খুশি।'

    আজ শুরু মতুয়াদের বারুণী মেলা

    বারুণী মেলা মতুয়া সম্প্রয়াদের আবেগের মেলা। ২০০ বছরেরও প্রাচীন। চৈত্র মাসের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথিতে এই মেলা শুরু হয়। ৭ দিন ধরে চলে। আজ ভোর থেকে পুণ্যস্নান শুরু। মেলাকে কেন্দ্র করে মমতাবালা, শান্তনু ঠাকুর, অসীম সরকারদের একজোট হওয়া ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আবহে তাত্‍পর্যপূর্ণ। শান্তনু ঠাকুরের কথায়, 'মিলেমিশে এক হচ্ছি, এটাই বড় কথা। আমরা কেউ না থাকলেও মেলা হবে। এটা বাস্তব কথা। বাজে বার্তা যাওয়া উচিত নয়, এটাই বড় কথা। আমি নিজেকে ধন্যবাদ জানাই, যে আমার বোধদয় হয়েছে, আমার চিত্তনিষ্ঠ হয়েছে, যে একসঙ্গে করা উচিত। তো আমি নিজের কাছে নিজেই কৃতজ্ঞ।'
  • Link to this news (আজ তক)