টাকার জন্য অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকাকে খুন করেছে তাঁরই ছেলে, বলছে পুলিশ
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৭ মার্চ ২০২৫
বাঘাযতীনে বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য এল পুলিশের হাতে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান মালবিকা মৈত্র নামে অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষিকাকে খুন করেছেন তাঁর ছেলে। টাকা নিয়ে বিবাদের জেরেই ছেলে মাকে খুন করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তবে নিহত বৃদ্ধার ছেলে অভিষেক মৈত্রকে এখনও খুঁজে পায়নি পুলিশ। তাঁর মোবাইল ফোনও বন্ধ বলে জানা গিয়েছে।
বুধবার দুপুরে বাঘাযতীনের বিবেকান্দ পল্লির ভাড়ার ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় মালবিকা মৈত্র নামে ওই বৃদ্ধার অর্ধদগ্ধ দেহ। ওই ফ্ল্যাটে ছেলে অভিষেককে নিয়ে থাকতেন তিনি। মালবিকাদেবী একটি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। তাঁর স্বামী আগেই গত হয়েছেন। ২ মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শেষবার তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, বুধবার বেলা সাড়ে বারোটা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। ফ্ল্যাটের দরজা ছিল বাইরে থেকে বন্ধ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তাঁরা দেখেন বিছানার উপর পড়ে রয়েছে মালবিকাদেবীর অর্ধদগ্ধ দেহ। পুরো বিছানাটাই পুড়ে গিয়েছে। তবে ঘরের আর কিছু পোড়েনি। দেহের গলার কাছে বালিশ চাপা দেওয়া ছিল। ঘরে পাওয়া যায় একটি কেরোসিনের জ্যারিকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন লালবাজারের হোমিসাইড বিভাগের আধিকারিকরা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মালবিকাদেবীর ছেলে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কে চাকরি করেন। অসুস্থ মালবিকাদেবী সারাদিন একাই ফ্ল্যাটে থাকতেন। ছেলে অফিসে যাওয়ার সময় বাইরে থেকে তালা দিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে চাবি রেখে যেতেন। বুধবার তিনি তালা দিয়ে বেরিয়ে গেলেও চাবি রেখে যাননি। তাঁকে ফোন করলে দেখা যায় তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ। এর পরই সন্দেহ গাঢ় হয়।
তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা মালবিকাদেবী ও তাঁর ছেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করেন। তাতে দেখা যায়, দিন কয়েক আগেই মালবিকাদেবীর অ্যাকাউন্ট থেকে ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা পাঠানো হয়েছে। ছেলের অ্যাকাউন্টে এখন রয়েছে ১৯ লক্ষ টাকা। এর পরই গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন, টাকা পয়সা নিয়ে বিবাদের জেরেই মাকে খুন করেছেন ছেলে।
অভিযুক্ত অভিষেকের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ খবর চালাচ্ছে পুলিশ। এই ঘটনায় বিবেকানন্দ পল্লিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অবিলম্বে অভিযুক্তের গ্রেফতারি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।