• খাদিম কর্তা অপহরণ মামলায় ১২ বছর পর মুক্ত আখতার, কলকাতা হাইকোর্ট দিল বেকসুর খালাস
    হিন্দুস্তান টাইমস | ২৭ মার্চ ২০২৫
  • খাদিম কর্তা অপহরণ করার ঘটনায় গোটা রাজ্যে হিলে গিয়েছিল। আর এই অপহরণ কাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে যাবজ্জীবন সাজা হয় আখতার হোসেনের। কিন্তু আজ, বৃহস্পতিবার তাঁকে বেকসুর খালাস করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। আজ বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ আখতার হোসেনকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়েছে। এই ঘটনায় এখন ব্যাপক আলোড়ন পড়ে গিয়েছে। ঠিক ২৪ বছর আগের খাদিম কর্তা অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। আর সেই মামলায় ১২ বছর জেল খেটে মুক্ত হরিয়ানার বাসিন্দা আখতার হোসেন।

    এদিকে আখতার হোসেনের আইনজীবী কল্লোল মণ্ডল জানান, ২০০১ সালের ২৫ জুলাই খাদিম গ্রুপের অন্যতম কর্ণধার পার্থপ্রতিম রায় বর্মনকে তাঁদের তপসিয়া রোডের গোডাউনে যাওয়ার সময় অপহরণ করা হয়েছিল। তাতে সশস্ত্র কয়েকজন দুষ্কৃতী যুক্ত ছিল। পার্থপ্রতিম রায় বর্মনকে তাঁর গাড়ি থেকে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে অপহরণ করে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেয় অপহরণকারীরা। খাদিম কর্তার গাড়িচালক নবকুমার মণ্ডল সোজা গিয়ে পরমা তদন্ত কেন্দ্রে অপহরণের অভিযোগ জানান। তার পরে পার্থপ্রতিম রায় বর্মনের ভাই সিদ্ধার্থ রায় বর্মন তিলজলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।


    অন্যদিকে এই অপহরণে মূল অভিযুক্ত আফতাব আনসারির ঘনিষ্ঠ চার পাকিস্তানি জঙ্গি–সহ ৮ জনের মধ্যে একজনকে আজ মুক্তি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ধৃত আখতার হোসেনকে ভূত বাংলো বা অপহরণের জায়গায় কেউ দেখেননি বলে সাক্ষীদের বয়ানে উঠে আসে। আর তার ভিত্তিতে তাকে মুক্তি দিল বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি সব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ। ২০১২ সালে নূর মহম্মদ, জালালউদ্দিন মোল্লা, মিজানুর রহমান, মজ্জামেল শেখ, আখতার হোসেন, ঈশক আহমেদ, আরশাদ খান, তারিক মেহমুদ ওরফে নঈম গ্রেফতার হয়। এদের মধ্যে চার জন পাকিস্তানের নাগরিক। আলিপুর আদালতের নির্দেশে ২০১৭ সালে ধৃতদের সবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

    এছাড়া ২০২৪ সালে জেলেই মৃত্যু হয়েছে এক বন্দির। প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন মিজানুর রহমান সর্দার। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। তখন ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, অপহরণ করার পরে পার্থপ্রতিম রায় বর্মনকে হাড়োয়ার ভূতবাংলোয় রাখা হয়েছিল। ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়া হয় খাদিম কর্তাকে। মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল ৫ কোটি টাকা। তবে আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ না মেলায় ১২ বছর পর মুক্তি পেল আখতার হোসেন।
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)