• তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি পেতে চলেছে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি
    দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৮ মার্চ ২০২৫
  • ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি পেতে চলেছে তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি। এই স্বীকৃতি পেতে গেলে বেশ কিছু মাপকাঠিতে পাশ করতে হয়। একাধিক মানদণ্ডের উপর বিবেচনার পরে কোনও মিনার, প্রাসাদ, অরণ্য ও সৌধকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, এই বিশেষ স্বীকৃতি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক বেশ কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে গিয়েছে তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি।

    গত ১১ মার্চ কেন্দ্রীয় সরকারের আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ বিভাগের পক্ষ থেকে রাজবাড়ির বর্তমান সদস্য দীপেন্দ্রনারায়ণ রায়কে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। সেই চিঠিতে জানানো হয়েছে, স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সব ঠিক থাকবে এ বার ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের স্বীকৃতি পাবে তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি।

    ইউনেস্কোর আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য প্রকল্পে ২১টি দেশ নিয়ে গঠিত একটি কমিটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তালিকা তৈরির কাজ করে। বেশ কিছু মানদণ্ডের উপর ভিত্তি করে স্থান বেছে নেয় এই কমিটি। রাজবাড়ির সদস্য জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা রাজবাড়ি ঘুরে গিয়েছেন। প্রতিবছরই এই রাজবাড়িতে তাম্রলিপ্ত ও বৌদ্ধ ধর্মের সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। গত বছর এই সেমিনামে মোট ১৪ টি দেশের প্রতিনিধি, গবেষক ও অধ্যাপকরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাম্রলিপ্ত রাজবাড়িকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই নেপালের সমর্থন মিলেছে।

    ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ ঘোষণার জন্যে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সুপারিশের প্রয়োজন হয়। ইতিমধ্যেই তাম্রলিপ্ত রাজবাড়িকে এই বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের সুপারিশ মিলেছে। রাজ্য সরকারের তরফে সুপারিশ পাওয়া গেলেই অনেকটা এগিয়ে যাবে তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ির বিশেষ স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া।

    উল্লেখ্য, এই রাজবাড়ির সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়কার ইতিহাস জড়িয়ে আছে। সেই সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তমলুকের এই রাজবাড়িতে এসেছিলেন। ব্রিটিশ পুলিশ তাঁকে অন্যত্র সভা করতে না দেওয়ায় রাজবাড়ির আম বাগান পরিষ্কার করে সভার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
  • Link to this news (দৈনিক স্টেটসম্যান)