প্রসেনজিত্ সরদার: দুই পরিবারের বিবাদকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন উভয় পক্ষের মোট ৮ জন। ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিং থানার অন্তর্গত তালদি পঞ্চায়েতের রাজাপুর গ্রামে।
ঘটনার বিষয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ক্যানিং থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে, তালদি রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা দীনেশ বৈদ্য। তাঁর চাষের ক্ষেত থেকে মটর চুরি হয়। সেই মটর চুরিকে কেন্দ্র করেই প্রতিবেশী তাপস কুমার বৈদ্যকে বেধড়ক মারধর করে অপর পক্ষ। অভিযোগ মারধর করার পর রমেশ বৈদ্য, লাঠি নিয়ে প্রতিবেশী তাপসের বাড়িতে আবার চড়াও হয়। সেখানে তাদেরকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। মারধরের হাত থেকে আক্রান্তদের উদ্ধার করতে এগিয়ে যায় বৃদ্ধ কাঙাল চন্দ্র বৈদ্য, তারক সরদার ও গৃহবধু জয়ন্তী বৈদ্য। অভিযোগ তাদেরকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় গুরুতর জখম হয় উভয় পরিবারের ৮ জন। স্থানীয়রা জখমদেরকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে বধু জয়ন্তী বৈদ্য জানিয়েছেন, 'ওরা বলছে আমার স্বামী নাকি মটর চুরি করেছে। মটর পুলিস নিয়ে এসেছে। রমেশ বৈদ্য, দীনেশ বৈদ্য এবং তাদের পপরো পরিবার মিলে আমার স্বামীকে বেড়ারক মারে। ঘরের ভেতরে ঢুকে আমার স্বামীকে মেরেছে। আমার শাশুড়ি আর আমি মিলে বাধা দিতে গেছি, আমায় ধাক্তা মেরে ফেলে দিয়েছে। আমায় টানাটানি করে বায়রে নিয়ে এসে আমায়ও ওরা মেরেছে। আমার শাশুড়ি আমায় বাঁচাতে গেছিল। আমার জামাও ওরা ছিঁড়ে দিয়েছে। ধানজমিতে মটর চুরির বদনাম দিয়ে আমাদের বাড়িতে চড়াও হয়েছে রমেশ, রাজীব। '
অন্যদিকে রমেশ বৈদ্য জানিয়েছেন, 'তারক সরদার এবং তার পরিবার আমাদের মেরেছে। ওরা জমি নিয়ে গণ্ডগোল করেছে। ওরা আমাদের ৪ জনকেই বেধাড়ক মেরে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। ১ বিঘে জমি নিয়ে ওরা গণ্ডগোল করেছে। ওরা জোর করে দখল করছে আমাদের জমি। আমরা প্রতিবাদ করায় আমাদের রড, বাঁশ দিয়ে মেরেছে। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।'
ক্যানিংয়ে দুই পরিবারের মধ্যে মারপিটের ঘটনায় জখম হয়েছেন মোট ৮জন। এই ঘটনাটি ঘটেছে ক্যানিংয়ের তালদি পঞ্চায়েতের রাজাপুর গ্রামে। একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ জানিয়েছে। মটর চুরি করা নিয়ে ঝামেলার জেরে এই হাতাহাতি। হাতাহাতিই পরে বিশাল আকার ধারণ করে, যার জেরে জখম ৮। জখমদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।