অক্সফোর্ডে মমতাকে আরজি কর-বিক্ষোভ, ঠিক হল? অনিকেত যা বললেন...
আজ তক | ২৮ মার্চ ২০২৫
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ চলাকালীন বিশৃঙ্খলার পরিস্থিতি। সিঙ্গুর, আরজি কর কাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দর্শকাসনে উপস্থিতি SFI-এর UK শাখার কর্মীরা। হাতে পোস্টার নিয়ে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন। নানা প্রশ্নের মুখে পাল্টা জবাবও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে ঠান্ডা মাথাতেই পুরোটা সামলাতে দেখা যায়। SFI-র UK শাখা সোশাল মিডিয়ায় এই পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের কর্মীরা মমতা বন্দোপাধ্যায়কে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী মিথ্যা বলে যাচ্ছিলেন, তারই বিরোধিতা করেছেন তাঁরা। এদিকে, বিদেশে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখানো বা প্রশ্ন করার মধ্যে কোনও ভুল দেখছেন না আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ ভাবে বিক্ষোভ দেখানোর অধিকার সকলেরই রয়েছে, সেটা দেশ হোক বা বিদেশ।
Bangla.aajtak.in-কে অনিকেত মাহাতো বলেন,'৭ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও জানা যায়নি সঞ্জয় রায়ের সঙ্গে আর কে ছিল? তথ্য প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে কে বা কারা করেছে? কী উদ্দেশ্যে, কাঁদের বাঁচাতে লোপাট করা হয়েছিল? এগুলোও জানা যায়নি। সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি জামিনে মুক্তি পেয়ে গেলেন। এটা কেমন বিচার? স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মধ্যে আছে। আমরা তো বলেছি-বিচার তুমি দেবে না, নিস্তারও পাবে না। এই প্রশ্নগুলিও লন্ডনে প্রতিফলিত হয়েছে।'
মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন অনিকেত। তিনি বলেন, 'স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি নিয়ে নবান্নের বৈঠকে যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে সদর্থক পদক্ষেপ কোথায়? সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে পরিকাঠামোর উন্নতি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী, তার কোনও বাস্তবায়ন আমরা দেখতে পাচ্ছি না। থ্রেট কালচারে অভিযুক্তদের নিয়ে কমিটি গড়া হচ্ছে। সেই কমিটিগুলিকে দিয়েই মেডিক্যাল কলেজগুলি পরিচালনা করার পরিকল্পনা ও প্রয়াস আমরা দেখতে পাচ্ছি। আরজি কর মামলার শুনানিতে সরকারি আইনজীবী আসেন না। স্বাভাবিক ভাবেই বাংলার মানুষের, দেশের মানুষের প্রশ্ন করার অধিকার নিয়েছে। শালীনতা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কোনও ভুল নেই। প্রতিবাদ করা উচিত বলেই আমরা মনে করি। তাই লন্ডনের কলেজে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার মধ্যে কোনও অন্যায় নেই। মানুষ প্রশ্ন করবে এটাই তো গণতন্ত্রে সব বড় বিষয়।'
এদিকে, SFI-র UK-র তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অক্সফোর্ডে গিয়ে মিথ্যাভাষণ দেবেন, আর SFI চুপ করে শুনবে? তা হয় না। আরজিকরে নির্ভয়ার যন্ত্রণা আমাদের সকলের আছে। তাই প্রশ্ন হয়েছে। ক্যাম্পাসে গণতন্ত্র, বাংলার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্পের দুরাবস্থা নিয়ে মমতা ব্যানার্জি এবং ওনার বাহিনীকে এসএফআই প্রশ্ন করবেই। থ্রেট কালচারের বিরুদ্ধে কথা হবেই। যখন বেকারত্বে রাজ্য ডুবে, সে সময় ৪৬% বেকারত্ব কমিয়ে দেওয়ার মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রশ্ন হবেই। ইংল্যান্ড হোক বা ইংলিশবাজার। আজ অক্সফোর্ডে দুনিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত পড়ুয়া- গবেষক, যারা বিলেতে ভারতীয় ছাত্রদের যন্ত্রণার পাশে থাকে, সেই Students' Federation of India - United Kingdom এর সদস্যরা গিয়ে মমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। আর সেখানে তথাকথিত মিডিয়া ব্যারনদের আস্ফালনটাও দেখুন।' (অসম্পাদিত)