রণয় তেওয়ারি: মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা ছেলের। সেই ছেলে কীভাবে খুন করতে পারে! ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা। কথায় কথায়, "জয় জগন্নাথ" বলত অভিষেক! সেই ছেলে খুনি! ঘটনার পর থেকে ২দিন কাটতে চললেও, এখনও পর্যন্ত কোনও খোঁজ নেই বৃদ্ধা খুনে অভিযুক্ত ছেলে অভিষেক মৈত্রর।
গত বুধবার পাটুলি থানা এলাকার বিদ্যাসাগর কলোনির ঘর থেকে মালবিকা মৈত্র নামে বছর ৭২-এর এক বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে পুলিস। শরীরের সিংহভাগ-ই পুড়ে গিয়েছিল বৃদ্ধার। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিস জানতে পারে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর, দেহটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকেই বৃদ্ধার ছেলে অভিষেক মৈত্রর কোনও খোঁজ নেই। তাঁর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
জানা গিয়েছে, কালীঘাটের রানি শঙ্করী লেনে এক সময়ে থাকতেন মৈত্র পরিবার। অভিষেকরা ৩ ভাইবোন। দুই বোনেরই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে মেজো। ছেলে অভিষেকের সঙ্গেই থাকতেন মালবিকা দেবী। প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, মায়ের প্রতি অগাধ ভক্তি ছিল অভিষেকের। মা-কে প্রচন্ড ভালোবাসতেন অভিষেক। মায়ের যাবতীয় দেখাশোনা থেকে ঘরের সমস্ত কাজকর্ম নিজের হাতেই করতেন অভিষেক। সেই ছেলে-ই নিজের মা-কে মেরে ফেলেছ! একথা ভাবতেই পারছেন না প্রতিবেশীরা।
পাটুলি থানা এলাকার বিদ্যাসাগর কলোনির যে ঘরে মা-ছেলে ভাড়া ছিলেন, সেই ঘরের প্রতি মাসে ভাড়া ৮৫০০ টাকা। এছাড়া মেইনটেন্যান্স চার্জ ২০০ টাকা। এক প্রতিবেশী জানান, অভিষেককে দেখতে একদম সাদামাটা। কথায় কথায় 'জয় জগন্নাথ' বলতেন। বলতেন, জগন্নাথদেব তাঁকে ডাকছে! মাঝে-সাঝেই অভিষেককে বলতে শোনা যেত, তিনি পুরী যাবেন জগন্নাথ দেবের দর্শন করতে।
আরেক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, বাইরে থেকে খাবার কিনে নিয়ে এসেই খেতেন মা-ছেলে। তবে বৃদ্ধা মায়ের সমস্ত মলমূত্র অভিষেক নিজে হাতেই পরিষ্কার করতেন। যদিও সেসব পরিষ্কার করতে করতে এক-একসময়ে তাঁকে 'সাইকো পেশেন্ট'-এর মতো খিটখিটে দেখতে লাগত তাঁকে। অপর এক প্রতিবেশীর কথায়, শেয়ার বাজারেও টাকা খাটাতেন অভিষেক। মার্কেট ডাউন যাচ্ছিল কয়েকমাস ধরেই।
এখন সেই শেয়ার মার্কেটেই সব টাকা খুয়েই কি মা-কে খুন করে ছেলে পালিয়েছে কিনা! সেই আশঙ্কা-ই করছেন প্রতিবেশীরা। দেহ উদ্ধারের পর ২ দিন কাটতে চলল, এখনও কোথায় লুকিয়ে অভিষেক! সেটাই ভাবাচ্ছে পাটুলি থানার পুলিসকে। তাঁর খোঁজে চলছে তল্লাশি। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই তদন্ত করছে পুলিস।