আরজিকরে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল এক তরুণী চিকিৎসককে। বিগত দিনে গোটা বিশ্বজুড়ে তার ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল। আর এবার অক্সফোর্ডে সেই ক্ষোভের আঁচ সহ্য করতে হল খোদ বাংলার মুখ্য়মন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে।
এবার গোটা ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন আরজি করে সেই নির্যাতিতার বাবা-মা।
তাঁর বাবা সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, সারা পৃথিবী জুড়ে প্রতিবাদ হবে। সারা দেশজুড়ে চলছে। একটা কথা ওনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যতদিন না বিচার দেবেন ততদিন ওনার নিস্তার নেই। এই মৃত্যুর ঘটনা ওনাকে তাড়া করবে। তিনি যেখানে যাবেন সেখানেই…আমরা লড়াইটা করছি। আমরা যে লড়াইটা করছি সেটা জায়গা মতো পৌঁছে দিতে পারলে আরও প্রশ্নের উত্তর তাঁকে দিতে হবে। এই যে ওনাদের জোকারগিরি যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় শুনানির দিন কোর্টের মধ্যে বলেছেন, এগুলো বলা বন্ধ করতে হবে। মুখে বলছেন বিচার চাই, ১৫ দিনের মধ্য়ে সিবিআই বিচার করে দিন। আর জজ সাহেব কি ফের তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন যেখানে ট্রায়াল শেষ হয়ে গিয়েছে। এসমস্ত কথা চলবে না। মানুষ সব বুঝে গিয়েছে। বাঙালিরা বিক্ষোভ করেছেন। যাঁদের উনি বলেছিলেন দেশে পড়াশোনা করে বিদেশে গিয়ে দেশের বদনাম করছে, তারা সুযোগ পেয়েছেন দিয়ে দিয়েছেন। সারা দেশ জুড়ে, সারা পৃথিবীর লোক আমাদের সঙ্গে আছেন। অনেকে ভিডিয়ো কল করেন।১৩৬টি দেশের প্রতিনিধি আমাদের সঙ্গে মিটিং করেছেন। সেখানে আমাদের বক্তব্য সকলে শোনেন। কীভাবে বড় হয়েছিল তা জানতে চান। ব্যান্ডেজের ছবি দেখানো প্রসঙ্গে নির্যাতিতার বাবা বলেন, উনি আগেই জানতেন সমস্যার মধ্য়ে পড়ব সেকারণে ওটা ব্যবস্থা করে নিয়ে গিয়েছিলেন। এসব জোকারগিরি করে মানুষকে আর ভুল বোঝানো যাবে না।
নির্যাতিতার মা বলেন, 'আমি সারা বিশ্বের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ। মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা মুখ্য়মন্ত্রী যে অন্যায় করেছেন আমার মেয়ের যে মৃত্যু ঘটেছে তাঁরই হেফাজতে কারণ আমার মেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছিলেন, কাজের জায়গায় ছিলেন, এটা বিশ্বের কেউ মেনে নিতে পারেননি। এর উত্তর তাঁকে দিতেই হবে। যেখানে যাবেন সেখানেই প্রতিবাদের মুখে পড়তে হবে। বাংলা তাঁর নিজের মেয়ের বিচার চায় বিশ্ব তাঁর মেয়ের বিচার চায়। আমার মেয়ে বিশ্বের মেয়ে হয়ে গেছে। সে মারা গেছে। কিন্তু সে আজ বিশ্বের মেয়ে হয়ে গেছে। গোটা বিশ্ব তার মেয়ের বিচার চায়।'