শুক্রবারও গেলেন না থানায়,হাইকোর্টে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ করলেন অর্জুন
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৮ মার্চ ২০২৫
ভাটপাড়ার মেঘনা মিলের সামনে গুলিচালনার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের FIRকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। অর্জুনের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। দ্রুত এই মামলার শুনানির আবেদন জানিয়েছেন অর্জুনের আইনজীবী।
এদিন আদালতে অর্জুন সিংয়ের আইনজীবী বলেন, মেঘনা জুটমিলের সামনে গুলি চালনার ঘটনায় অর্জুন সিংকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। অর্জুন সিং বিরোধী দলে আছেন বলে তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে রাজ্য সরকার। অবিলম্বে FIR খারিজ করে সমস্ত অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হোক।
বুধবার রাতে অজুন সিংয়ের বাড়ির অদূরে ভাটপাড়ার মেঘনা মিলের ভিতরে এক শ্রমিককে মারধর করা হচ্ছে বলে খবর পান অর্জুন। খবর পেয়ে দলবল নিয়ে সেখানে পৌঁছন তিনি। অর্জুন সেখানে পৌঁছনোর পর গুলি চলে। অর্জুনের দাবি, গুলি তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল। কিন্তু গুলি লাগে স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের অনুগামীর গায়ে। সাজ্জাদ নামে গুলিবিদ্ধ সেই যুবকের দাবি, গুলি চালিয়েছেন অর্জুন সিং নিজে। এর পর অর্জুন সিংয়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করে তাঁকে হাজিরার জন্য নোটিশ পাঠায় জগদ্দল থানা। কিন্তু অর্জুন স্পষ্ট জানিয়ে দেন থানায় যাবেন না তিনি।
দিনভর অপেক্ষার পর বিকেলে অর্জুনের বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। প্রায় ১ ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরোন পুলিশ আধিকারিকরা। রাতে অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে যান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বেরিয়ে বলেন, ‘অর্জুন সিং থাকলে ব্যারাকপুরে ভোটলুঠ করতে পারবে না তৃণমূল। তাই পথের কাঁটা সরানোর চেষ্টা চলছে।’ এর পরই রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে জগদ্দল থানা থেকে ৩টি নোটিশ পৌঁছয়।
জানা গিয়েছে, ২টি নোটিশে অর্জুন সিংকে তাঁর বন্দুকের লাইসেন্স নিয়ে ও আরেকটি নোটিশে তাঁর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে শুক্রবার জগদ্দল থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। আর তৃতীয় নোটিশে হাজিরা না দিলে গ্রেফতারির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
অর্জুনের দাবি, পুলিশের ওপর তাঁর বিন্দুমাত্র ভরসা নেই। এই পুলিশ তৃণমূলের ক্যাডার হিসাবে কাজ করে। থানায় গেলে তাঁকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাই তদন্তে তিনি সহযোগিতা করবেন, তবে আদালতের মাধ্যমে।