• সুকান্তর সচিবের সম্পত্তি এত বাড়ল কীভাবে? প্রশ্ন RSS-পন্থী সংগঠনের!
    হিন্দুস্তান টাইমস | ২৮ মার্চ ২০২৫
  • হঠাৎই খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সচিব অজয় সরকার। সৌজন্যে বিগত কয়েক বছরে তাঁর সম্পত্তির বাড়বাড়ন্ত এবং সেই ইস্যুতে আরএসএস নেতা তথা পেশাদার আইনজীবী শান্তনু সিংহের তোলা প্রশ্ন।

    বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্য়েই রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। সুকান্তর দাবি, তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই অজয় সরকারকে নিয়ে অযথা টানাটানি করা হচ্ছে। যদিও তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ বন্ধ করা যাচ্ছে না। তারা এ নিয়ে ইতিমধ্যে সুর চড়াতে শুরু করেছে।

    প্রসঙ্গত, প্রথমবার ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে জয়ী হন সুকান্ত মজুমদার। ঠিক সেই সময় থেকেই তাঁর সচিব হিসাবে কাজ করা শুরু করেন অজয় সরকার।

    সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় নিজের সম্পত্তির খতিয়ান প্রকাশ করেন অজয়। সেই অনুসারে - ২০১৮-২০১৯ সালে বালুরঘাট শহরে সাড়ে ছয় শতক জমি কেনেন তিনি এবং সেই জমিতেই পাকা বাড়ি তৈরি করেন।

    এরপর ২০২২ সালে বালুরঘাট শহর লাগোয়া একটি গ্রামে রাস্তার ধারেই প্রায় ২ বিঘা জমি কেনেন অজয় সরকার। ওই একই বছর অন্যত্র স্ত্রীর নামে কয়েক শতক জমি কেনেন তিনি। এর দু'বছর পর ২০২৪ সালে বালুরঘাটে একটি ফ্ল্যাট কেনেন অজয় সরকার। যদিও তাঁর দাবি, প্রায় ৩২ লক্ষ টাকার সেই ফ্ল্যাট কিনতে ঋণ নিয়েছেন তিনি। এবং তিনি ২০১৩ থেকে প্রতিবছর আয়কর রিটার্ন জমা করে এসেছেন।

    এদিকে, সুকান্ত মজুমদার যখন প্রথমবার সাংসদ হন, তখন খুব মানুষই তাঁকে চিনতেন। পরে তিনিই রাজ্য বিজেপি সভাপতি হন এবং তারও পরে হন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী।

    এই প্রেক্ষাপটে কলকাতার আইনজীবী তথা হিন্দু সংহতির রাজ্য সভাপতি শান্তনু সিংহ বলেন, 'ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সুকান্ত মজুমদারের ব্যক্তিগত সচিবের সম্পত্তি বাড়তে থাকার অর্থ হল -পরোক্ষে সুকান্ত মজুমদারেই ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়া। দলের উচিত, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা।'

    পালটা এ নিয়ে সুকান্ত মজুমদারের বক্তব্য হল - 'অজয়ের সম্পত্তি তাঁর খেটে অর্জন করা টাকায় কেনা। আমাকে বদনাম করতেই তাঁকে ধরে টানাটানি চলছে।' অন্যদিকে, অজয় সরকারও বলেন, 'আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করা হচ্ছে।'

    প্রসঙ্গত, সুকান্ত মজুমদার তৃতীয় মোদী সরকারের রাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পরই অজয় তাঁর অতিরিক্ত ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে সরকারের কাছ থেকে মোটা টাকা বেতন পান। আনুমানিক যার পরিমাণ ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার কিছু বেশি। তিনি একটি গাড়িও ব্যবহার করেন। তবে, সেই গাড়ি তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় বলেই দাবি অজয়ের।

    এই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমে কোনও মন্তব্য করতে চাননি দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা বিজেপি সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী। যদিও জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল কটাক্ষ করে বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে নিয়মিত কটূ কথা বলেন সুকান্ত। এখন তাঁরই ব্যক্তিগত সচিবের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারির অভিযোগ করছেন ওঁদেরই শিবিরের লোকজন! সুকান্ত এবার কী বলেন, দেখা যাক।'

    উল্লেখ্য, হিন্দু সংহতির সদস্যদের দাবি, তাঁরা আরএসএস-এর ভাবধারায় অনুপ্রাণিত হলেও আদতে ওই সংগঠনের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত নন। যদিও আরএসএস-এর প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই এই সংগঠনটি চালান বলে দাবি সূত্রের।
  • Link to this news (হিন্দুস্তান টাইমস)