চিত্তরঞ্জন দাস: নিজের বাড়ি সাফ করল পালিত 'কন্যা'। ধরা পড়তেই হতবাক সবাই। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার ২। উদ্ধার ২৫ ভরি সোনা সমেত ২ লক্ষ টাকা। ধৃতদের নাম দীপা শর্মা ও দীপা যাদব। দিল্লির বাসিন্দা। ধৃতদের পুলিসি হেফাজত চেয়ে আদালতে পেশ।
দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারের আলাউদ্দিন খাঁ বীথি এলাকায় তিন তলা বাড়ি রয়েছে সঞ্জীব খাঁ নামের এক ইঞ্জিনিয়ারের। তিনি বর্তমানে কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। সিটি সেন্টারের বাড়িতে বাবা, মা আর স্ত্রী থাকতেন। বাড়ির কাজের মহিলার মেয়ে ১১ বছর বয়স থেকে দীপা শর্মা বাড়িতে কাজ করত। কিন্তু থাকত পালিত কন্যার মত। ১১ বছর ধরে বাড়ির সমস্ত কিছুই সে জেনে গিয়েছিল। ইঞ্জিনিয়ারের পরিবারের সকলেই দীপাকে ভালোবেসে কখনো দামি মোবাইল, আবার কখনো বহু মূল্যের সাইকেল উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সেই দীপুর বয়স ২২ বছর গড়াতেই সে চোরের ভূমিকা নিল।
সম্প্রতি দিল্লি থেকে দীপুর বান্ধবী দীপা যাদব এসেছিল দুর্গাপুরে। বৃহস্পতিবার সঞ্জীববাবুর স্ত্রী নাগমণি শর্মা কিছু সময়ের জন্য বাজারে বেরোতেই সুযোগ বুঝে বাড়ির আলমারি খুলে ২৫ ভরি সোনার অলংকার, ১ কেজি রুপোর অলংকার এবং আড়াই লক্ষ টাকার নগদ চুরি করে। চুরি করা সোনা, রুপো এবং নগদ টাকা একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে দুর্গাপুর স্টেশনে রওনা দেয় সেই ট্রলি ব্যাগ নিয়ে দীপা যাদব। এদিকে দীপা শর্মা বাড়িতেই থেকে যায়।
নাগমণি দেবী বাড়ি বাড়ি ফিরে এসে দেখেন আলমারি থেকে টাকা এবং অলঙ্কার উধাও। নাগমণি দেবী দীপাকে জিজ্ঞাসা করে বাড়িতে কি কেউ এসেছিল? দীপা শর্মা বলে সে তো কিছু জানে না। তারপরেই নাগমণি দেবী দুর্গাপুর থানার পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নামে পুলিস। দীপা যাদবকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। তার মোবাইলের কল লিস্ট চেক করেই বুঝতে পারে দীপা শর্মার সঙ্গে চুরির যোগ।
মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে তড়িঘড়ি দুর্গাপুর থানার পুলিস দুর্গাপুর স্টেশনের তিন নম্বর প্লাটফর্মে হানা দেয়। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় সোনা এবং টাকা ভর্তি ট্রলি সহ দীপা যাদবকে। শেষপর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয় ২ যুবতীকেই। শুক্রবার পুলিসি হেফাজত চেয়ে ধৃতদের তোলা হয় দুর্গাপুর আদালতে।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার(পূর্ব) অফিষেক গুপ্তা সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন,"আসানসোল দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেটের যে তৎপর তা আরো একবার প্রমাণিত। সিটি সেন্টারের মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এইভাবে চুরি আগে কখনো ঘটেনি। দুর্গাপুর থানার পুলিসের কাছে অভিযোগ জমা পড়তেই তদন্ত শুরু হয়। চার ঘণ্টার মধ্যেই সাফল্য মেলে। প্রথমে দীপা শর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীপা শর্মা অনেক দিন থেকেই অভিযোগকারীদের বাড়িতে ছিল এবং কাজ করত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে পাকড়াও করা হয় দিল্লির আরেক যুবতী দীপা যাদবকে। উদ্ধার হয়েছে সোনার রুপোর অলংকার এবং নগদ টাকা।