মমতাবালার হাতেই থাকল মতুয়া মেলার নিয়ন্ত্রণ, ডিভিশন বেঞ্চেও হার শান্তনুর
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৯ মার্চ ২০২৫
মতুয়া সম্প্রদায়ের বারুণী মেলা নিয়ে সিঙ্গল বেঞ্চে ধাক্কা খাওয়ার পর ডিভিশন বেঞ্চেও হার হল কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের। শুক্রবার বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চ শান্তনুর আর্জি খারিজ করে দেয়। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, মতুয়া মেলা করতে পারবেন মমতাবালা ঠাকুর। একইসঙ্গে, আদালতের নির্দেশ, মেলায় কোনওরকমের গণ্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করা হলে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৃহস্পতিবার থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের বারুণী মেলা শুরু হয়েছে। সাতদিন ধরে চলবে এই মেলা। তার আগে থেকেই মেলার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নিয়ে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ মমতাবালা ঠাকুরকে এ বছরের মেলার অনুমতি দেয়। সেই অনুমোদনকে ত্রুটিপূর্ণ বলে দাবি করে হাইকোর্টে মামলা করেন শান্তনু ঠাকুর। অভিযোগ ওঠে, ১৯৬৩ সালে জেলা পরিষদ আইন অবলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরেও জেলা পরিষদের আইনকে দেখিয়ে একপক্ষকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তখন বিচারপতি অমৃতা সিনহার সিঙ্গল বেঞ্চ এই ত্রুটির কারণে মেলার লাইসেন্স বাতিল করে ফের জেলা প্রশাসনকে শুনানি করে নতুন নির্দেশ দিতে বলেন। সেইমতো শুনানি করে জেলা প্রশাসন মমতাবালা ঠাকুরকেই মেলার অনুমোদন দেয়। সেই অনুমোদনকে চ্যালেঞ্জ করে আবারও শান্তনু হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।
বিচারপতি বিভাস পটনায়ক গত মঙ্গলবার শান্তনুর আবেদনে খারিজ করে দেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন শান্তনু ঠাকুর। শান্তনুর আইনজীবীর বক্তব্য, মমতাবালা ঠাকুরের মেলার অনুমোদন বাতিল করতে হবে। শান্তনু ঠাকুরকেই মেলার লাইসেন্স দিতে হবে। এর সপক্ষে আইনজীবীর যুক্তি, মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি কেবল ঠাকুরবাড়ির রক্তের সম্পর্ক থাকলেই হবে। মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে ঠাকুর বাড়ির রক্তের কোনও সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, মমতাবালা ঠাকুরের আইনজীবী মুকুল বিশ্বাসের যুক্তি, শান্তনু সঙ্ঘাধিপতি হতে পারেন না। কারণ সঙ্ঘাধিপতি থাকার সময় বড়মা বীণাপাণি দেবী একটা ঘোষণাপত্র করে যান ২০১৮ সালে। সেখানে তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন, তাঁরা অবর্তমানে মমতা ঠাকুর সঙ্ঘাধিপত হবেন। আর তারপর মমতা ঠাকুরের মেয়ে মধূপর্ণা ঠাকুর হবেন সঙ্ঘাধিপতি। সেই ক্ষমতা বলে, বর্তমানে মমতা ঠাকুরই মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি। শান্তনু ঠাকুরদের সাধারণ সেবাইত হিসেবে নিযুক্ত করে যান বড়মা। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হাইকোর্ট শান্তনুর আবেদন খারিজ করে। ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, যদি বিরোধীপক্ষ গণ্ডগোল করে তাহলে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে পারবেন মমতাবালা।