বাংলা পেল নয়া মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক, ২০২৬'র ভোটের সময় দায়িত্বে থাকবেন এই IAS…
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৯ মার্চ ২০২৫
২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদ থেকে অবসর নিয়েছিলেন আরিজ আফতাব। এরপর প্রায় তিন মাস কেটেছে। অবশেষে সেই পদে বসানো হল কাউকে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মনোজ আগরওয়াল হলেন পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত সিইও হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন দিব্যেন্দু দাস। এদিকে রাজ্যে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদে ছিলেন আরিজ আফতাব। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় সেই পদে থাকবেন মনোজ কুমার আগরওয়াল।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মনোজ আগরওয়াল এ মাস থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্ব সামলাবেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তিনিই থাকবেন এই পদে। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদে দ্বায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁকে অন্য সব দ্বায়িত্ব থেকে অব্যহতি দিতে হবে। উল্লেখ্য, ১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ কুমার। বর্তমানে তিনি অতিরিক্ত মুখ্য সচিব হিসেবে বন দফতর এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স দফতরের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে প্রশাসনিক কর্মী বর্গ দপ্তর, খাদ্য দফতর, দমকল ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত সচিব পদেও ছিলেন মনোজ।
এদিকে জানা যায়, এই মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে বহু বছর আগে দুর্নীতির মামলা করেছিল সিবিআই। রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ২০০৯ সালে নয়াদিল্লির ডিডিএ-এর ভূমি দফতরে কর্মরত থাকাকালীন মনোজ আগরওয়ালের বিরুদ্ধে আয় বহির্ভূত সম্পত্তি থাকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় মনোজ আগরওয়ালের একাধিক আবাসনে হানা দিয়েছিল সিবিআই। জানা যায়, সেই সময় দিল্লিতে চারটি, গাজিয়াবাদে দুটি এবং মথুরায় দুটি আবাসনে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। সেই তল্লাশিতে কয়েক কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছিল বলেও দাবি করা হয়েছিল। এছাড়া বাড়ি থেকে ২.৭৫ লক্ষ টাকা নগদ, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট মিলিয়ে ৫০ লক্ষ টাকা স্থায়ী আমানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
এদিকে এখন রাজ্য–রাজনীতির বড় ইস্যু 'ভূতুড়ে ভোটার' ধরা। এই আবহে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিয়োগে বিলম্ব ঘটায় বিজেপিকে তোপ দেগেছিল তৃণমূল। অভিযোগ উঠেছিল চক্রান্তের। নিয়ম অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক পদের জন্য রাজ্য সরকারকে এক বা একাধিক নামের প্যানেল পাঠাতে হয়। সেই তালিকা থেকে একজনকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হিসাবে বেছে নেয় নির্বাচন কমিশন। জানা যায়, এর আগে দু’বার নবান্ন থেকে তালিকা গিয়েছে। কিন্তু ওই দু’বারই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নামের তালিকা বাতিল করা হয়েছিল।