গ্রামীণ স্বাস্থ্য প্রকল্প আটকে রাখা টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্র, নাম বদলেই অর্থ মিলল
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৯ মার্চ ২০২৫
বাংলার নানা খাতে টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্রীয় সরকার বলে অভিযোগ। আর এই অভিযোগের ভিত্তিতে সংসদে বারবার সোচ্চার হয়েছেন বাংলার তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় সরকারকে চেপে ধরা হয়েছিল। তার পরও বহু প্রকল্পের টাকা বকেয়া রয়ে গিয়েছে। এই আবহ এবার বাংলার জন্য সুখবর এল। রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য প্রকল্পের টাকা বহুদিন আটকে ছিল। এবার সেই টাকা বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তাতে রাজ্যের কোষাগার খানিকটা স্ফীত হল বলে মনে করা হচ্ছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পের জন্য ৩৬১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। গত দু’বছর ধরে আটকে রাখা হয়েছিল এই টাকা। বারবার চিঠি দিয়েও কোনও লাভ হয়নি। এতদিন পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার আটকে রাখা টাকা বরাদ্দ করল রাজ্যকে। এখনও একশো দিনের টাকা, আবাস যোজনার টাকা, শিক্ষা মিশনের টাকা, গ্রাম সড়ক যোজনার টাকা এখনও পায়নি বাংলা। বরং একশো দিনের কাজের বকেয়া টাকা রাজ্য সরকার নিজের কোষাগার থেকে গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছে। এমনকী আবাস যোজনার পরিবর্তে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম দিয়ে টাকা দেওয়া হয়েছে উপভোক্তাদের।
এদিকে প্রশাসন সূত্রে খবর, এই টাকা আটকে রাখার ক্ষেত্রেও আসলে ছিল নামের গেরো। রাজ্যের হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলিকে ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্র’ নামে করতে হবে। এটাই ছিল কেন্দ্রীয় ফতোয়া। যা রাজ্য সরকার মেনে নিতে নারাজ ছিল। এই ফতোয়া না মানলে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ মিলবে না বলে স্পষ্ট আভাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের এই শর্ত মানতে প্রথমে বাংলার সরকার রাজি ছিল না। তাই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংঘাতে সূচনা সেখান থেকেই।
অন্যদিকে এবার কদিন আগে কেন্দ্রীয় সরকারের সুপারিশ মেনে নেয় রাজ্য সরকার। হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টারগুলিকে রাজ্য সরকার ‘আয়ুষ্মান আরোগ্য কেন্দ্রে’ গড়ে তোলে। ওই নামই রাখা হয়। যা কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি ছিল। আর এই শর্ত মানতেই রাজ্য সরকার পেয়ে গেল কেন্দ্রীয় সরকারের বরাদ্দ বলে সূত্রের খবর। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের ডিরেক্টর এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দফতরের অতিরিক্ত সচিবের পক্ষ থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবকে বরাদ্দ অর্থ দেওয়ার কথা ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে। এখন দেখার অন্যান্য প্রকল্পের টাকা কেমন করে বাংলায় আসে।