বস্তিবাসীর ভিটে বাঁচাতে উদ্যোগী KMC, ঠিকা স্বীকৃতি দেওয়ার ভাবনা মেয়রের
হিন্দুস্তান টাইমস | ২৯ মার্চ ২০২৫
মাঝেমধ্য়েই অভিযোগ ওঠে, জমি মাফিয়া এবং অসাধু প্রোমোটাররা বস্তিবাসীর বসত ভিটে ছিনিয়ে নিচ্ছেন! যাতে সেইসব জায়গা দখল করে সেখানে দামি বহুতল খাড়া করে মোটা মুনাফা লোটা যায়। এ নিয়ে বহু বছর ধরেই বহু অভিযোগ শোনা গিয়েছে। এবার সেই সমস্যা পাকাপাকিভাবে মেটানোর কথা ভাবছে কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষ।
পুরনিগমের তরফে স্থির করা হয়েছে, এবার শহরের এই সমস্ত বস্তিগুলিকে ঠিকা জমির আওতায় নিয়ে আসা হবে। যাতে সেখানকার বস্তির বাসিন্দারা 'ওনার অফ দ্য স্ট্রাকচার'-এর আইনত স্বীকৃতি পান এবং যে কেউ যখন-তখন এসে তাঁদের বসত ভিটে বা জমি কেড়ে নিতে না পারে।
কলকাতা পুরনিগমের তরফে আরও স্থির করা হয়েছে, এই সমস্ত বস্তিগুলি একবার ঠিকা কন্ট্রোলারের আওতায় চলে এলেই সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য পাকা বাসস্থান তৈরি করতে তাঁদের 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের আওতাতেও আনা হবে।
শুক্রবার এই গোটা বিষয়টি নিয়ে সরব হন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। যেসব জমি মাফিয়া বা অসাধু প্রোমোটাররা বস্তিবাসীর ভিটেমাটি কেড়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ, তাঁদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের কাছে মেয়র খোলসা করেন, সম্প্রতি ভবানীপুরের চক্রবেড়িয়ার বস্তিতে যে আগুন লেগেছিল, তা কোনও দুর্ঘটনা নয়। আসলে এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এক জমি মাফিয়ার ষড়যন্ত্র। তিনি ভেবেছিলেন আগুন লাগলে অসহায় বস্তিবাসী আরও বেশি বিপদে পড়বেন। আর, সেই ঘটনার সুযোগ নিয়ে তিনি ওই জমি কেড়ে নেবেন এবং দক্ষিণ কলকাতার ওই 'প্রাইম লোকেশন'-এ পেল্লায় বহুতল খাড়া করবেন।
ফিরহাদ হাকিম আরও অভিযোগ করেন, ভবানীপুর এলাকার ৭২ নম্বর ওয়ার্ডেও একই চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু, শেষমেশ সেই ষড়যন্ত্র রোখা সম্ভব হয়েছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এ প্রকাশিত এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে ফিরহাদকে উদ্ধৃত করে উল্লেখ করা হয়েছে, 'বস্তিগুলি সব একে একে মোটা মুনাফার জন্য আবাসন প্রকল্পে রূপান্তরিত হয়ে যাবে। আর, আমরা বসে বসে সেটা দেখব, এটা হতে পারে না। বদলে, আমরা নিশ্চিত করব যাতে এই বস্তিগুলিকে ঠিকা জমির আওতায় নিয়ে আসা যায়। যাতে সেখানকার বাসিন্দাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করা সম্ভব হয়।'
তথ্য বলছে, এই কাজ করার জন্য বর্তমান ঠিকা আইনে বেশ কিছু বদল আনতে হবে কলকাতা পুরনিগম কর্তৃপক্ষকে। যাতে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলিও এক্ষেত্রে কার্যকর করা সম্ভব হয়। কিন্তু, তাতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে পুর আধিকারিকরাই স্বীকার করছেন।
এই প্রসঙ্গে এক পুর আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'আমাদের সমীক্ষা করে দেখতে হবে যে ৩ হাজারেরও বেশি বস্তির মধ্যে কতগুলিকে ঠিকা জমির অধীনে আনা যেতে পারে। কারণ, বেশ কিছু বস্তির নিজস্ব মালিকানা রয়েছে। আমরা যদি সেই বস্তিগুলিকেও ঠিকা জমির অধীনে আনতে চাই, তাহলে সম্ভবত সেই জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণবাবদ টাকা দিতে হবে।'