সল্টলেকের জন্য পৃথক পুরসভা হোক, BMC-কে ভাগ করার আর্জি, জনস্বার্থ মামলা হাইকোর্টে
হিন্দুস্তান টাইমস | ৩০ মার্চ ২০২৫
বিধাননগর পুরসভাকে বিভক্ত করার আর্জি জানিয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত সূত্রের খবর, বিধাননগর রেসিডেন্টস ফোরামের পক্ষ থেকে সল্টলেকের তিন বাসিন্দা এই আর্জি জানিয়ে গত ২৬ মার্চ জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সল্টলেকের উন্নয়নের জন্য বিধাননগর পুরসভাকে ভাগ করা প্রয়োজন।
গত বছর থেকেই পুরসভা ভাগ করার দাবি জানিয়ে আসছে ফোরাম। এই দাবিতে, গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্য সচিব, পুর ও নগরন্নোয়ন দফতর, বিধাননগর পুরসভার মেয়র, চেয়ারপার্সন সহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন ফোরামের সদস্যরা। কিন্তু, কোনও সাড়া না পাওয়ায় তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী ১০ এপ্রিল মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।মামলাকারীদের মধ্যে রয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর অশেষ মুখোপাধ্যায়।
ম্যামলাকারীদের আইনজীবী চন্দ্রশেখর বাগ জানিয়েছেন, ‘আমরা মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিবের কাছে এবিষয়ে আবেদন করেছিলাম। কোনও সাড়া পায়নি। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছি।’ তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বিধাননগর পুরসভার মধ্যে রাজারহাট-গোপালপুরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সেই এলাকার জমির চরিত্রের সঙ্গে সল্টলেকের জমির চরিত্রের পার্থক্য রয়েছে। সল্টলেক হল লিজহোল্ড এলাকা। তাছাড়া সল্টলেক হল একটি পরিকল্পিত শহর। মামলার আবেদন অনুযায়ী, এরফলে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে অনুদানের ক্ষেত্রে।
২০১৫ সালে বিধাননগর পুরসভার সঙ্গে রাজারহাট-গোপালপুর সহ আরও কিছু এলাকা সংযুক্ত করার পর বিধাননগরকে কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে এই পুরসভায় মোট ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে। তার মধ্যে রাজারহাট-গোপালপুরে ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে, যেখানে সল্টলেকে রয়েছে ১৪টি ওয়ার্ড। ফলে পুরসভায় যে অনুদান আসে বেশি ওয়ার্ড থাকায় তার বেশিরভাগই রাজারহাট-গোপালপুরের জন্য চলে যায় বলে দাবি আইনজীবীর। অভিযোগ, এসবের কারণে সল্টলেকের উন্নয়ন ঠিকমতো হচ্ছে না। আরও অভিযোগ, উন্নয়নের কাজ ঠিকমতো না হওয়ার ফলে সল্টলেকের রাস্তাঘাট খানা খন্দে ভরে গিয়েছে। রাস্তায় আলো কম, খালগুলিতে ময়লা জমে থাকছে। আর মশার উপদ্রব বাড়ছে।
বালি পুরসভার উদাহরণ দিয়ে আইনজীবী বলেন, ২০১৫ সালে ভেঙে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছিল বালি পুরসভাকে। পরে ২০২১ সালে আবার বালি পুরসভা আলাদা করা হয়েছে। বিধানগরের ক্ষেত্রেও তেমনটা করুক সরকার।