• স্বাস্থ্যকর্মীকে হেনস্তা! ধৃত মহিলা
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৫
  • সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ভ্যাকসিন দেওয়ার সময় পায়ে ছুঁচ রয়ে গিয়েছে।  তাতেই ভাইপোর পায়ে ইনফেকশন ছড়িয়েছে। এমনই অভিযোগে বিষ্ণুপুরের উলিয়াড়ায় দলবল নিয়ে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চড়াও হন পিসি। স্বাস্থ্যকর্মীকে হেনস্তা, গালিগালাজ, নথিপত্র ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এমনকী এক মহিলা স্বাস্থ্যকর্মীকে খুনের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় পুলিস শনিবার অভিযুক্ত পিসিকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতের নাম মিতা সাঁতরা। তাঁর বাড়ি বড়জোড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্মীকে হেনস্তা, খুনের হুমকি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 

    এনিয়ে অভিযোগকারী কমিউনিটি হেল্থ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপর্ণা কুণ্ডু নন্দীকে ফোন করা হলে তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে বিষ্ণুপুরের বিএমওএইচ নিতাই সরকার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট জায়গা ফুলে যায়। কিন্তু, সেটা ওষুধ দিলে কমে যায়। কোনও কারণে রোগীর বাড়ির লোকজনকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। সেই আক্রোশেই তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চড়াও হয়েছিলেন। এমনকী স্বাস্থ্য কর্মীকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। তাতে কর্মীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। সেই জন্য পুলিসের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের প্রকাশঘাট গ্রামের বাসিন্দা মথুর ঢকের শিশুপুত্রকে এক মাস আগে উলিয়াড়া সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়। তারপর থেকে তার পা ফুলে থাকে। জ্বর আসছিল। একাধিকবার সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে দেখানো হয়েছে। প্রতিবার তাঁরা আশ্বাস দেন, বরফ লাগালেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু, কোনওভাবেই তা কমেনি। বরং শিশুটি দিন দিন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। সোমবার হঠাৎ পায়ে চাপ পড়তেই পুঁজ বেরিয়ে আসে। এরপরেই মথুরবাবু তাঁর সন্তানকে বিষ্ণুপুরে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে যান। সেখান থেকে ফিরে আসার পর পরিস্থিতির কথা জানানোর জন্য মথুরবাবুর দিদি মিতা সাঁতরা দলবল নিয়ে উলিয়াড়া সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। তাঁর ভাইপোর পায়ে ছুঁচ থেকে যাওয়ার কারণে ইনফেকশন ছড়িয়েছে। এমন অভিযোগে কর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। তখনই দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। ওই সময়েই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কমিউনিটি হেল্থ অ্যাসিস্ট্যান্ট সুপর্ণা কুণ্ডু নন্দীকে হেনস্তা, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, সরকারি নথি ছিঁড়ে দেওয়া হয়। এমনকী ভাইপোর পায়ের ক্ষতে বাড়াবাড়ি হলে স্বাস্থ্যকেন্দ্র জ্বালিয়ে দেওয়া হবে এবং কর্মীকে খুনের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর সুপর্ণাদেবী বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস ঘটনার তদন্তে নেমে শনিবার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।  ধৃতের ভাই মথুরবাবু বলেন, স্বাস্থ্য কর্মীদের গাফিলতির কারণে আমার ছেলের পায়ে ইনফেকশন ছড়িয়েছে। আমার দিদি সেই কথা বলতেই সুস্থাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়েছিলেন। দু’পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, দিদি কাউকে হেনস্তা করেননি। সরকারি নথি নষ্ট করেননি। খুনের হুমকিও দেওয়া হয়নি। ওরা দিদিকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)