• চাহিদা তুঙ্গে, জোগান দিতে নাওয়া খাওয়া ভুলে গিয়েছে ‘সিমুই গ্রাম’
    বর্তমান | ৩০ মার্চ ২০২৫
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: গোটা গ্রামে সাজসাজ রব। তুঙ্গে কর্মব্যস্ততাও। ঈদের আগে যেন নিঃশ্বাস ফেলারও সময় নেই। চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে হবে যে। সকলেই ব্যস্ত সেমই তৈরির কাজে। এবছর বিক্রি ভালো হওয়ায় ঈদের আগেই যেন গোটা গ্রামে উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। এই ছবি মেদিনীপুর সদর ব্লকের রাজার বাগান গ্রামের। এই গ্রামকে মানুষ ‘সিমুই গ্রাম’ হিসেবেই চেনে। গ্রামের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, এবছর রেকর্ড পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে সিমুই। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা সিমুই কিনছেন। বাজারে চাহিদা অনুসারে জোগান দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রত্যেক ব্যবসায়ী প্রায় ২০কুইন্টাল সিমুই বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় সিমুই প্রস্তুতও দ্রুত হচ্ছে। অন্যদিকে, সিমুই গ্রাম থেকে কিছুদূরে হোসনাবাদ এলাকায় বিপুল পরিমাণে তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা। সেই লাচ্ছা যাচ্ছে ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড সহ বিভিন্ন রাজ্যে। এবছর গাওয়া ঘি দিয়ে তৈরি লাচ্ছার চাহিদাও রয়েছে। চোখের নিমেষে লাচ্ছা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। বিক্রি ভালো হওয়ায় লক্ষ্মীলাভ হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

    এদিন বাড়ির উঠানে সিমুই তৈরি করছিলেন সামসু আলম। তিনি বলেন, এবছর ভালোই বিক্রি হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই গ্রামে তৈরি সিমুইয়ের গুণমান খুবই ভালো। ২০কুইন্টাল সেমই বিক্রি করেছি। রবিবার বিক্রি আরও বাড়বে। পরিবারের সকলে একসঙ্গে মিলেমিশে সিমুই বানাচ্ছি। পাইকারিতে ৫২টাকা কিলোগ্রাম দরে বিক্রি করছি।

    লাচ্ছা ব্যবসায়ী সারতাজ আলম বলেন, চাহিদা ভালোই রয়েছে। এবছর রেকর্ড পরিমাণে লাচ্ছা বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে লাচ্ছা চলে গিয়েছে। তবে ময়দা ও ঘিয়ের দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।

    রাজার বাগান এলাকার বাসিন্দা আজিবুল খান বলেন, এই গ্রামের সিমুই খুবই জনপ্রিয়। বহু মানুষ এই গ্রামে সিমুই কিনতে আসেন। দোকানের চেয়ে এই গ্রামের সিমুইয়ের মান আলাদা। দামও সাধ্যের মধ্যে। বিক্রি ভালো হওয়ায় খুশি গ্রামবাসীরা থেকে বিক্রেতারাও।

    পশ্চিম মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ খুশির ঈদে মাতবে। এই উৎসব উদ্‌যাপনের একটি বড় অংশ জুড়ে থাকে খাওয়া-দাওয়া। ঈদের আগেও তাই খাওয়া-দাওয়ার প্রস্তুতি তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, ঈদে জমিয়ে হবে পেটপুজো। বেশিভাগ পরিবারই তার আয়োজন শুরু করেছে। তবে শেষপাতে মিষ্টিমুখ চাই-ই চাই। বাড়িতে আসা অতিথিদের মিষ্টিমুখ করাতে লাচ্ছা ও সেমইয়ের জুরি মেলা ভার। তাই শহরের পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকার বাজারগুলিতে লাচ্ছা ও সিমুইয়ের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এবার বিক্রিবাটাও হচ্ছে খুব। মেদিনীপুর শহরের সেমই বিক্রেতা রঞ্জন দাস বলেন, ভালোই বিক্রি হচ্ছে। লাচ্ছার থেকেও সিমুইয়ের চাহিদা বেশি।
  • Link to this news (বর্তমান)