পরিবারের সদস্য এইচআইভি পজিটিভ, স্কুলে প্রবেশে সমস্যা খুদের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ৩০ মার্চ ২০২৫
বাড়ির দুই সদস্য এইচআইভি পজিটিভ। তাই স্কুলে চরম হয়রানি শিকার হতে হয়েছে দ্বিতীয় শ্রেণীর পড়ুয়াকে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ও পরিচালন সমিতি বাচ্চাটিকে স্কুলে ঢুকতে বাধা দিয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষিকা সেই অভিযোগ নাকচ করে জানিয়েছেন, স্কুলের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। বাকি পড়ুয়াদের অভিভাবকরা স্কুলে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছে। তাই তাঁরা এই মুহূর্তে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি, গ্রামবাসীরাও ওই পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছে। ফলত, ক্রমাগত চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হচ্ছে পরিবারটিকে। ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির আরামবাগে।
সূত্রের খবর, আরামবাগের গোঘাট থানার বেঙ্গাই পঞ্চায়েতের একটি গ্রামের একই পরিবারের দু’জন সদস্য এইচআইভি পজিটিভ। ওই পরিবারটিও বিষয়টি অস্বীকার করেনি। সেই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীরা একপ্রকার বয়কট করেছে ওই পরিবারকে। এমনকি ওই পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গেও কথা-বার্তা বন্ধ করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ঘটনার জন্য হয়রানির শিকার হতে হয়েছে ওই পরিবারের খুদে সদস্যের। স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে তাকে। এই নিয়ে ওই পরিবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। স্কুল, স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছেও সমস্যা জানানো হয়েছে। সেখান থেকেও কোনো জবাব মেলেনি। পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, আক্রান্ত দু’জনের চিকিৎসা চলছে। এই রোগ ছোঁয়াচে নয়। এই নিয়ে সরকার থেকে একাধিক কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। বিভিন্ন উপায় প্রচার চলেছে। তা সত্ত্বেও এভাবে গ্রাম থেকে শুরু করে স্কুলে পর্যন্ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে যা তাদের কাছে বিস্ময়ের।
স্কুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটিকে স্কুলে আসতে তাদের তরফ থেকে কোনো নিষেধ করা হয়নি। স্কুলে বর্তমানে ১৬৭ পড়ুয়া আছে। তাদের অভিভাবকরাই মূলত বিরোধিতা করেছে। তাঁরা লিখিতভাবে স্কুলে জানিয়েছে, ওই শিশুটি স্কুলে আসলে তাঁরা তাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাবে না। এক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো হাত নেই। তবে স্কুলের পক্ষ থেকে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির নিস্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান গ্রামের লোকেদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন।